ওয়েব ডেস্ক: গরমের অন্যতম উপকারি খাবার হল পান্তাভাত।গরমকালের খাবার হিসেবে পান্তার জুরি মেলা ভার। আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রচলন আছে,শুধু নামটা বদলে যায়। শহরাঞ্চলে হয়তো বা কিছু মানুষ আছেন যারা হয়তো পান্তাভাত নাম শুনলেই ভ্রূ কুঁচকে ফেলেন, আবার কিছু মানুষ পান্তাভাত খেতে বেশ ভালোবাসেন। গ্রামাঞ্চলে কিন্তু এখনো প্রতিনিয়ত মানুষজন পান্তাভাত খান তাদের সকালের জলখাবার হিসেবে, যেহেতু পান্তাভাত বানানো খুব একটা ঝক্কির কাজ নয়। সাধারণ ভাতের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রেই বেশি কার্যকর ভেজা বাসি ভাত ৷ আর সাথে যদি থাকে একটুকরো লেবু, অল্প একটু সরষের তেল, কাঁচালঙ্কা, কাঁচা পেয়াজ তাহলে এই ভাত খাওয়ার আনন্দই যেন আলাদা পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
পান্তাভাত তৈরি করা কিন্তু কোনও কঠিন কাজ নয়।রাতের খাবারের পর বেঁচে যাওয়া ভাতে জল ঢেলে সেটাকে অন্ততপক্ষে ১২-১৮ ঘন্টা সাধারণ তাপমাত্রায় রেখে দিলেই তৈরি হয়ে যায় পান্তাভাত।এর থেকে বেশি সময় আবার রাখতে যাবেন না বাপু, তাহলেই কিন্তু বিপদ। তবে হ্যাঁ, ভাতের মধ্যে জল ঢেলে খাওয়া মানেই পান্তাভাত খাওয়া নয় কিন্তু! পুষ্টিগুণের বিচারে পান্তাভাতের কিন্তু জুরি মেলা ভার। গবেষণায় দেখা গেছে পান্তা ভাতে নানা ধরনের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা পুষ্টিকর খনিজ পদার্থ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক, ফসফরাস, ভিটামিন বি ইত্যাদি। সম্প্রতি অসম কৃষি বিদ্যালয়ের একজন গবেষক দেখেছেন, ১২ঘন্টা ভাত ভিজিয়ে রাখলে ১০০ গ্রাম পান্তায় ৭৩.৯১ মিলিগ্রাম আয়রন তৈরি হয়। সেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে আয়রন থাকে ৩.৪ মিলিগ্রাম।
চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক পান্তাভাতের উপকারিতা সম্পর্কে-
বিজ্ঞানীদের মতে ,পান্তাভাত পিএইচ ব্যালেন্স করতে সাহায্য করে। অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
ন্যাচারাল ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে পান্তা ভাত। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে।
সাধারণ ভাতের তুলনায় পান্তাভাতে সোডিয়ামের পরিমাণ অনেক কম,ফলে এটি হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বেশ ভালো।অন্যদিকে পটাশিয়ামের পরিমাণ যথেষ্ট বেশি।
পান্তাভাতে গাঁজনের ফলে রেজিস্ট্যান্স স্টার্চ তৈরি হয়,যেটি সিরাম কোলেস্টেরল হ্রাস করতে সাহায্য করে।
ফারমেন্টেশনের ( গাঁজনের) ফলে পান্তায় কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাটের পরিমাণ অনেকাংশেই কমে যায়। তাই অনেক ক্ষেত্রে শরীরের ওজন কমাতে কার্যকরী হয়।তবে অবশ্যই সেটা সীমিত পরিমাণে খেতে হবে।
পান্তা ভাতকে “বিউটি সিক্রেট অফ এশিয়া “বলা হয়। কারণ এটি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে; ত্বকের ইলাস্টিসিটি বৃদ্ধি করে।ফলস্বরূপ ত্বক মসৃণ, টানটান ও উজ্জ্বল দেখায়।
পান্তা ‘বডি রিহাইড্রেটিং ফুড’ হিসেবে পরিচিত। দগ্ধদিনে তাই পান্তাভাত ভীষণ উপকারী।
পান্তা ভাতে প্রচুর পরিমাণে উপকারি ব্যাকটেরিয়া( প্রোবায়োটিকস) তৈরি হয় ,যা হজমে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শক্তি যোগায়।
পান্তাভাত সারারাত ফার্মেন্টেশনের ফলে ভিটামিন বি টুয়েলভের মাত্রা বেড়ে যায়। যার ফলে ক্লান্তি দূর করে এবং অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
২০১৯ সালে গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে যে, পান্তাভাতের শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
শরীর সতেজ রাখতে সহায়ক।
শরীরের তাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম।
[ বি: দ্র :- ১)ডায়াবেটিক পেশেন্টেরা অবশ্যই ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে পান্তাভাত( কতটা পরিমাণ জরুরি আপনার শরীরের জন্য) খেতে পারেন।
২)হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে টেবিল সল্ট বা কাঁচা নুন পান্তাভাত খাওয়ার সময় না ব্যবহার করাটাই স্বাস্থ্যসম্মত, কারণ পান্তাভাতে সোডিয়ামের মাত্রা গরম ভাতের তুলনায় অনেক কমে যায়, সেইসময় যদি পান্তাভাত খাওয়ার সময় কাঁচা নুন ব্যবহার করা হয় তবে সেটা হৃদরোগীদের জন্য ক্ষতিকারক। কাঁচা নুনের পরিবর্তে, মাছ ভাজা (স্যালো ফ্রাই),সবজির তরকারি দিয়ে অবশ্যই পান্তাভাত খেতে পারেন কারণ মাছ ভাজা বা সবজি থেকে আপনি পর্যাপ্ত নুন পাবেন।]
