ওয়েব ডেস্ক; ১৯ জুলাই: ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চ, একটি প্ল্যাটফর্ম যা প্রাথমিকভাবে বর্তমান ক্ষমতাসীন কেন্দ্রীয় সরকারের রাষ্ট্রায়ত সেক্টরেরব্যাঙ্কগুলিকে বেসরকারীকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনমতকে একত্রিত করার জন্য গঠিত হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষকে সংযুক্ত করে এই দানবীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে এই মঞ্চ। ছাত্র, যুব, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী, গ্রামীণ কারিগর, শিল্পকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত এবং প্রবীণ নাগরিক, গিগ কর্মী, আইটি কর্মী, মহিলা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, কৃষক, বিভিন্ন PSTI কর্মী আমাদের এইআন্দোলনে সামিল হচ্ছেন। ১৯ শে জুলাই এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বললেন ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চের যুগ্ম কনভেনর সৌম্য দত্ত।
তিনি আরও বলেন, যদি ব্যাংক জাতীয়করণ আইন সংশোধন করা হয় তবে এটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলি বিক্রি করার পথ প্রশস্ত করব। যা সাধারণ নাগরিকদের সঞ্চিত আমানতকে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে দেবে। কারণ কোনো ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হয়েগেলে সরকারের আর কোনো দায় থাকবে না।
ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চের আরেকজন যুগ্ম কনভেনর বিশ্বরঞ্জন রায় বলেছেন যে সরকারের উদ্দেশ্য সমস্ত জাতীয় সম্পদ কর্পোরেট হাউসের কাছে হস্তান্তর করা। যখন প্রাইভেট সেক্টর ব্যাঙ্কগুলি শুধুমাত্র কর্পোরেট হাউসগুলির স্বার্থের জন্য সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের দিকে মনোনিবেশ করে, তখন পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলি সমস্ত সামাজিক বাধ্যবাধকতাগুলি পূরণ করে। অভাবী ছাত্রদের শিক্ষা ঋণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সস্তা সুদের হারে MSME ঋণ সবই হয় রাষ্ট্রায়ত্ত ও গ্রামীণ ব্যাঙ্কের মধ্য দিয়ে।
সুব্রত দাশগুপ্ত, সামাজিক কর্মী এবং ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চের সদস্য বলেছেন যে, ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হলে সাধারণনাগরিকদের নিরাপত্তা এবং তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। সঞ্চয় মুনাফালোভীদের হাতে চলে যাবে । সুতরাং সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষকে একত্রিত করে এই মঞ্চ তৈরি করে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা আছে। আমরা আগামী দিনে এইআন্দোলনকে এই রাজ্য পেরিয়ে দেশের সর্বত্র পৌঁছে দিতে চাই এবং কেন্দ্রের সরকারে এই বেসরকারিকরণের চক্রান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত তৈরি করতে চাই।
সৌম্য দত্ত সংযোজন করেন যে ব্যাংক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চ এদিন দুটি পথ সভা আয়োজন করেছে শ্যামবাজার পাঁচ মাথা মোড় ও যাদবপুর ৮বি বাস স্ট্যান্ডে সন্ধ্যা ৬ টা থেকে। এবং আগামী ২৩ শে জুলাই, কলকাতা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট সভাগৃহে এক সুবিশাল নাগরিক সম্মেলন যেখানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ উপস্থিত থাকবেন ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রেড ইউনিয়ন, যুব সমাজ পেনশনার্স, ছাত্র, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।
