ওয়েব ডেস্ক; ২৬ জুলাই: ২৫ জুলাই, দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের ১১২ ব্যাটালিয়ন , সীমান্ত চৌকি বিথারির জওয়ানরা, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করে, ১.১৯৩ কেজি ওজনের ১০ টি সোনার বিস্কুট সহ একজন চোরাকারবারীকে গ্রেপ্তার করে। জব্দকৃত সোনার বিস্কুটের আনুমানিক মূল্য ৭২,৬৫,৪৮৯ /- টাকা। এই সোনা বাংলাদেশ থেকে ভারতে আনার চেষ্টা করছিল চোরাকারবারিরা।
উল্লেখ্য, সীমান্ত চৌকি বিথারির জওয়ানরা খবর পেয়েছিলেন যে তাদের এলাকা থেকে সোনা পাচার হতে চলেছে। খবর পাওয়া মাত্রই জওয়ানরা তাদের এলাকায় অ্যামবুশ বসিয়ে সতর্কতা বাড়ায়। বিএসএফ জওয়ানরা একজন সন্দেহজনক ব্যক্তিকে আসতে দেখেছিল। কাছে আসতেই জওয়ানরা তাকে থামিয়ে সোনা চোরাচালান নিয়ে কড়া খোঁজখবর নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে তার খামারে সোনার বিস্কুট লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে। জওয়ানরা ঘটনাস্থলেই পাচারকারীকে ধরে তার খামারে নিয়ে যায়। জওয়ানরা তার খামারে গভীরভাবে তদন্ত করলে ঘটনাস্থল থেকে কাকরোলের খামারে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ পাওয়া যায়। জওয়ানরা প্লাস্টিকের ব্যাগ খুললে তাতে ১০ টি সোনার বিস্কুট পায় । এরপর আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাচারকারীকে সীমান্ত চৌকিতে নিয়ে আসে জওয়ানরা। ধৃত পাচারকারীর নাম শফিকুল গোলদার (মিন্টু গোলদার), গাফফার গোলদার, গ্রামের ডাহারকান্দা, জেলা উত্তর 24 পরগনা।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় চোরাকারবারি প্রকাশ করে যে তার প্রতিবেশী হাবিব মোল্লার বাসিন্দা ডাহারকান্দা, জেলা উত্তর 24 পরগনা তার খামারে গিয়েছিল এবং সেখান থেকে সে বাংলাদেশী চোরাকারবারির কাছ থেকে এই সোনা পেয়েছিল। এরপর এই সোনা হাবিব মোল্লা তার গ্রামের আরেক চোরাকারবারী আলিম দফাদারের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর আলীম দফাদার এই স্বর্ণ তার হাতে তুলে দেন। এরপর বিএসএফ জওয়ানদের দেখে সে তার খামারের সবজিতে এই সোনা লুকিয়ে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ঘটনাস্থলেই তাকে ধরে ফেলে জওয়ানরা। তিনি আরও জানান, বিএসএফ-এর ডিউটি লাইন অতিক্রম করে তিনি আবার এই সোনা আলিম দফাদারের হাতে তুলে দিতে যাচ্ছিলেন। এই কাজের জন্য তার ৩,০০০/- টাকা পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পথে বিএসএফ তাকে ধরে ফেলে।
আটক চোরাকারবারী ও জব্দকৃত স্বর্ণ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁতুলিয়া কাস্টম অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স সীমান্তে বসবাসকারী লোকদের বিএসএফ-এর সীমা সাথী হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। আপনি ১৪৪১৯ এ রিপোর্ট করতে পারেন। এ ছাড়া দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তে আরও একটি নম্বর রয়েছে। এছাড়াও ৯৯০৩৪৭২২২৭ জারি করা হয়েছে যার উপর স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বা ভয়েস মেসেজও পাঠানো যাবে। সঠিক তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তিকে উপযুক্ত পুরস্কারের অর্থ প্রদান করা হবে এবং তার পরিচয় গোপন রাখা হবে।
