ওয়েব ডেস্ক; ১৭ সেপ্টেম্বর: কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী আর কে সিং কলকাতায় বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করেছে। দেশের স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও ২ কোটি ৯০ লক্ষ বাড়ি বিদ্যুৎ বিহীন ছিল। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার সেই বাড়িগুলিতে বিদ্যুতের সংযোগ পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়াও, প্রতিটি বাড়িতে নলবাহিত পানীয় জলের সংযোগের ব্যবস্থা করছে এই সরকার। অর্থাৎ, এই সরকার দেশের প্রতিটি দরিদ্র মানুষের কথা ভাবনা চিন্তা করে। আর তারই অঙ্গ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের হস্তশিল্পীদের ক্ষমতায়নের জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। প্রথাগত শিল্পী ও কারিগরদের জন্য বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নতুন দিল্লির দ্বারকার যশোভূমিতে প্রধানমন্ত্রী, ‘পিএম বিশ্বকর্মা’ যোজনার সূচনা করেছেন।প্রসঙ্গত,দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু বিশিষ্ট হস্তশিল্পীদের হাতে পিএম বিশ্বকর্মা শংসাপত্র তুলে দিয়েছেন। হস্তশিল্পীদের জন্য শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকা।

এই প্রকল্পে কাঠের কাজের শিল্পী, নৌকা প্রস্তুতকারক, অস্ত্র প্রস্তুতকারক, কামার, হাতুড়ি ও ছোটোখাটো সরঞ্জাম নির্মাতা, তালা নির্মাতা, স্বর্ণকার, মৃৎশিল্পী, ভাস্কর, প্রস্তরশিল্পী, জুতোর কারিগর, রাজমিস্ত্রী, ঝুড়ি/মাদুর/ঝাঁটা নির্মাতা, পুতুল ও খেলনা নির্মাতা (প্রথাগত), কেশশিল্পী, মালাকার, রজক, পোষাক প্রস্তুতকারক এবং মাছ ধরার জাল নির্মাতারা উপকৃত হবেন।

মন্ত্রী জানান, অতীতেও এইসব মানুষরা সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এঁরা মূলত সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণীভুক্ত। প্রধানমন্ত্রী বরাবরই প্রথাগত শিল্পে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছেন। সেই ভাবনারই প্রতিফলন আজকের এই উদ্যোগ। এই প্রকল্পে দক্ষতার মূল্যায়ন, মূল প্রশিক্ষণ এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশিক্ষণের সময় প্রশিক্ষিতদের দৈনিক ৫০০ টাকা সহায়ক ভাতা দেওয়া হবে। এছাড়াও প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সুবিধাভোগীদের ১৮ মাসের মেয়াদে ১ লক্ষ টাকার ঋণের ব্যবস্থাও থাকছে। এই ঋণ পরিশোধ করলে দ্বিতীয় কিস্তিতে তাঁরা ৩০ মাসের মেয়াদে আরও ২ লক্ষ টাকা ঋণ পাবেন। অর্থাৎ প্রশিক্ষিতদের মোট ৩ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়ার সংস্থান থাকছে। এই ঋণের জন্য ৫ শতাংশ হাতে সুদ দিতে হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পেশার ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন হবে, ফলস্বরূপ ভারত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যেই ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০২৮ সালের মধ্যে দেশ তৃতীয় শক্তিশালী অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রী এও জানান, কেন্দ্রীয় সরকার হস্তশিল্পীদের সবধরণের সহায়তার জন্য প্রস্তুত।

সূত্র: পি আই বি