ওয়েব ডেস্ক; ২০ সেপ্টেম্বর: ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মু আজ (২০ সেপ্টেম্বর,২০২৩) নতুন দিল্লিতে মানবাধিকার সংক্রান্ত এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ফোরামের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মানবাধিকারের বিষয়টিকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সার্বিকভাবে ধরিত্রী মাতার সেবা হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। যে গ্রহে আমাদের বাস, সেখানে মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত আচরণের জেরে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধরিত্রী বলে অভিমত ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারতের মানুষ বিশ্বাস করেন বিশ্বের প্রতিটি কণা এক অভিন্ন সত্তার প্রকাশ। বিলম্ব না করে, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ফের জাগিয়ে তুলে তাকে রক্ষা করতে হবে এবং আরও সমৃদ্ধ করায় আমাদের উদ্যোগী হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষ একইসঙ্গে সৃজনশীলতা এবং ধ্বংসাত্মক প্রবণতার অধিকারী । তিনি এও বলেন, বৈজ্ঞানিক সমীক্ষাতেই দেখা গেছে, এই গ্রহ বিলুপ্তির ষষ্ঠ পর্বে প্রবেশ করেছে। এই ধ্বংসলীলা বন্ধ না হলে শুধু মানব সভ্যতা নয়, পৃথিবী থেকে সমস্ত প্রানীই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র বিধিবদ্ধ আইনের পরিসরেই আবদ্ধ থাকা নয়, আন্তর্জাতিক মহলের নৈতিক দায়িত্ব হল সর্বাঙ্গীণ অর্থে মানবাধিকার নিশ্চিত করা।

শুধুমাত্র পরিবেশ এবং জলবায়ুর বিষয়ে এই সম্মেলনের একটি অধিবেশন আয়োজনের উদ্যোগ অত্যন্ত আনন্দের বলে রাষ্ট্রপতি মনে করেন। আলাপ-আলোচনার শেষে মানব সভ্যতা এবং আমাদের গ্রহের কল্যাণের লক্ষ্যে একটি সার্বিক ঘোষণাপত্রে পৌঁছনো যাবে বলেও তিনি আশাবাদী।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সাধারণতন্ত্রের সূচনা থেকেই আমাদের সংবিধান প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছে। এরফলে, লিঙ্গসাম্য, জীবন ও মর্যাদা রক্ষার মতো নানা ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে নীরব বিপ্লবের সাক্ষী থেকেছে এই দেশ। স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনে মহিলাদের জন্য অন্তত ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করা হয়েছে। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, জাতীয় সংসদ এবং বিধানসভাগুলিতেও একই ধরণের সংরক্ষণের প্রস্তাব উঠেছে। তেমনটা হলে তা হবে আমাদের সময়ে লিঙ্গসাম্যের প্রশ্নে সবচেয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন।

শ্রীমতী মুর্মু বলেন, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে উন্নতির প্রশ্নে ভারত বিশ্বের অন্যান্য অংশের সর্বোত্তম প্রনালীগুলি থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে প্রস্তুত। এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক ফোরাম, বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট মহলগুলির সঙ্গে আলোচনা এবং সমন্বয়ের ভিত্তিতে দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে রাষ্ট্রপতি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।