কলকাতা, অক্টোবর ১৫: যে কোনো দেশের উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে যে সমস্ত বিষয়গুলি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তার মধ্যে অন্যতম হল সেই দেশের পরিবহণ বা যোগাযোগ ব্যবস্থা। শুধু দেশ নয়, বড় বড় শহরগুলির উন্নয়নের অন্যতম প্রাণ ভোমরা সেই শহরের পরিবহণ ব্যবস্থা। সড়ক পরিবহণের পাশাপাশি লোকাল ট্রেন কিংবা মেট্রোরেল হয়ে ওঠে সেই শহরের যাত্রী পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এতে সময় যেমন বাঁচে, তেমন এড়ানো যায় যানজট।

শহর কলকাতায় যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম মেট্রো। শুধু কলকাতা নয়, দিনভর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিরও বহু মানুষ যাতায়াত করেন এই পরিবহন মাধ্যমেই। এই মুহুর্তে মোট ৩টি করিডরে চলছে মেট্রো। উত্তর-দক্ষিণ শাখায় দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষ। জোকা-এসপ্ল্যানেড করিডরে বর্তমানে জোকা থেকে তারাতলা পর্যন্ত পরিষেবা চালু রয়েছে এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো শাখা যেটি বর্তমানে সল্ট লেক সেক্টর ফাইভ থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত চালু রয়েছে।

তবে এই মুহুর্তে বেশিরভাগ যাত্রীরাই তাকিয়ে রয়েছেন ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের দিকে। কারণ এই মেট্রো প্রকল্প সম্পূর্ণরুপে তার প্রস্তাবিত রুটে চালু হয়ে গেলে কলকাতা শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন দেখা দেবে৷ খুব অল্প সময়ে কলকাতার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারবেন যাত্রীরা।

ইতিমধ্যেই ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের অধীনে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত চালু হয়েছে মেট্রো চলাচল। জোরকদমে চলছে প্রস্তাবিত রুটের বাকি অংশের কাজ। সম্প্রসারণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ মুহুর্তের কাজ সম্পন্ন করে চেষ্টা চলছে যতটা তাড়াতাড়ি বাকী অংশেও মেট্রো পরিষেবা চালু করে দেওয়া যায়।

চলতি বছরের মধ্যেই বেশ কিছু সম্প্রসারণের কাজ শেষ করে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে কলকাতা মেট্রোরেলের। এই ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে অনায়াসেই সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দান পৌঁছে যাওয়া যাবে গঙ্গার নীচ দিয়ে।

ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর প্রস্তাবিত রুটটির দৈর্ঘ্য ১৬.৫৫ কিলোমিটার। যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৯.৩০ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছর ডিসেম্বরে মাসের মধ্যে ৪.৮০ কিমি এবং আগামী বছর জুন মাসের মধ্যে অবশিষ্ট ২.৪৫ কিলোমিটার মেট্রোলাইনের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পে পুরো ১৬.৫৫ কিমি মেট্রো লাইনের মধ্যে ৫২০ মিটার পথ গঙ্গা নদীর তলা দিয়ে সুড়ঙ্গ পথে চলবে মেট্রো । আর এই কাজ সম্পন্ন হলে এবং প্রস্তাবিত রুটে মেট্রো পরিষেবা চালু হলে এটিই হবে ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নদীর নীচে মেট্রো সুড়ঙ্গ।

সব মিলিয়ে বলা যায় ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো পরিষেবা চালু হলে মহানগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটা বিরাট পরিবর্তন আসবে। সুরক্ষার পাশাপাশি যাত্রীদের সময় বাঁচবে, সাথে যানজট এড়ানো যাবে। যা কলকাতার উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে অনেকটাই সাহায্য করবে। স্বাধীনতার অমৃতকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজী ২০৪৭ সালের মধ্যে অর্থাৎ স্বাধীনতার ১০০ বছরের মধ্যে ভারতবর্ষকে উন্নত দেশ হিসেবে বিকশিত করার যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন তার অন্যতম ফ্যাক্টর যোগাযোগ ব্যবস্থা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘ট্রান্সফর্মেশন ইন ট্রান্সপোর্টেসন’ এর যে লক্ষ্য – তা পূরণে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো পরিষেবার চালু হওয়া যে আগামীদিনে সহায়ক হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷