ডা: চন্দ্রগুপ্ত
ওয়েব ডেস্ক; ১ মার্চ : আগে একটা সময় ছিল যখন বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বনে গরুর দুধের একটা বড় ভূমিকা থাকতো। তা সে পুজোর কাজে ব্যবহারের জন্য হোক বা ভোগের পায়েস রান্নার জন্য হোক অথবা পৌষ পাবনে পিঠের আয়োজনে হোক।
তখন মাদার ডেয়ারি দুধের খুব চল ছিল। যদিও হরিণঘাটা সেই সময় দুধের বাজারে একটি সফল নাম। সম্ভবত সালটা ছিল ১৯৭৭-৭৮, তখন খুব সকালে লাইন দিয়ে দুধ নেওয়া এবং লক্ষ্মীপূজো বা ভাইফোঁটাতে সেই দুধের তৈরি মিষ্টান্ন তৈরি করার মজাই ছিল আলাদা।
কিন্তু ২০২৪ সালে অথবা এর থেকে আরও যদি ৩-৪ বছর পিছিয়ে যাই, তাহলে দেখা যাবে বিভিন্ন নামি অনামি কোম্পানির দুধ প্যাকেটে করে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এখন আর বিভিন্ন পুজো পার্বণে আমরা দুধ পাবো কি পাবো না তার জন্য দুশ্চিন্তা করতে হয় না। দোকানদারের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে দুধ নিতেও হয় না। কিন্তু আমরা এই দুধের গুণগতমান বিচার কখনোই করি নি। এমনকি দুধের প্যাকেটের গায়ে কি লেখা আছে সেটাও পড়ে দেখার সময় অথবা আগ্রহ আমাদের থাকে না।
কিন্তু যদি একটি প্যাকেট আমরা মন দিয়ে পড়ে দেখি তাহলে দেখব যে এমন কিছু কথা সেখানে লেখা আছে যেটি রীতিমতো রোমহর্ষক। এমনই একটি বিখ্যাত দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের কম্পানি যার একটি হাফ লিটার দুধের প্যাকেটের গায়ে লেখা রয়েছে “এটি শুধুমাত্র একটি ব্র্যান্ড এর নাম, এর সাথে প্যাকেটে থাকা সামগ্রীর গুণগত মান কোনভাবেই নির্ণায়ক নয়”।
তাহলে আমরা কি শুধু ব্র্যান্ডটাকেই পছন্দ করছি নাকি সেই ব্র্যান্ডের তৈরি সামগ্রীকে যার উপর আমাদের দীর্ঘ বছর ধরে ভরষা রয়েছে, আস্থা রয়েছে।
আসুন আরো একবার নিজেদের শরীর স্বাস্থ্য, নিজের পরিবার-শিশুদের শরীর স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে প্রত্যেকবার জিনিসটি কেনার আগে প্যাকেটের গায়ে লেখা কথাগুলো একবার দেখে নিই। আমরা একবার দেখে নিই, সেই জিনিসটির আয়ু কতদিন অব্দি রয়েছে বলে লেখা আছে। তাতে হয়তো আমাদের কিছুটা সময় নষ্ট হবে, দোকানদারের ধৈর্য নষ্ট হবে। কিন্তু আমরা নিশ্চিতভাবে নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের বিষয়টিতে ভরষা করতে পারবো।
যদিও এই বিষয়গুলি নিয়ে ভাববার জন্য বিভিন্ন সরকারি বিভাগ রয়েছে। কোনো বিক্রেতার পণ্যের গুণগত মান খারাপ হলে তার জন্য আমরা সরকারের কাছে আবেদন করতে পারি। কিন্তু নিজেদের বড় ক্ষতি হয়ে গেলে এই আবেদনের কি কোন মূল্য থাকবে??
