ওয়েব ডেস্ক; ৩ মে : সমীক্ষার নামে নির্বাচনের পর সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য ভোটারদের নাম নিবন্ধন থেকে রাজনৈতিক দলগুলিকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিলো নির্বাচন কমিশন। এই ধরনের ক্রিয়াকলাপ ১৯৫১-র জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩ (২১) ধারা অনুযায়ী ঘুষ দেওয়ার সমতুল বলে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে। কমিশন বলেছে, কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং কিছু প্রার্থী আইনানুগ সমীক্ষা এবং পক্ষপাতমূলক আচরণের ভেদ মুছে দিয়ে নির্বাচনের পর সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য ভোটারদের নাম লিখিয়ে নিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন, সমীক্ষা কিংবা অ্যাপ মারফত ভোট পরবর্তী সময়ে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য ভোটারদের নাম লেখানো বন্ধ করতে হবে বলে সেখানে স্পষ্ট ভাবে বলা আছে।

ব্যক্তিগত ভাবে ভোটারদের আমন্ত্রণ জানিয়ে এভাবে প্রলুব্ধ করার প্রচেষ্টা পাইয়ে দেওয়ার নীতি বলে নির্বাচন কমিশন মনে করে।

কমিশন অবশ্য বলেছে, সাধারণ ভাবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেওয়া অনুমোদনযোগ্য। কিন্তু নির্দিষ্ট ভাবে ভোটারদের নাম লিখিয়ে নেওয়া কোন ভাবেই আইনানুগ নয়। এই ধরনের কার্যকলাপ রুখতে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বিধি বহির্ভূত ভাবে বিজ্ঞাপন ইত্যাদি দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করতে চাইলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১ ১২৭-এর এ, ১২৩-এর এক এবং ভারতীয় দন্ডবিধির ১৭১-এর বি ধারার আওতায় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

যে সব উদ্যোগ বিধি বহির্ভূত বলে কমিশন মনে করে সেগুলি হল – সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনে টেলিফোন নম্বর দিয়ে ব্যক্তি ভোটারকে নির্দিষ্ট কোন প্রকল্পের প্রাপক হওয়ার জন্য মিসড কল দিতে বলা। নাম, বয়স, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, বুথ নম্বর, নির্বাচনী কেন্দ্রের নাম ইত্যাদি বিশদ বিবরণ দেওয়ার উপযোগী গ্যারান্টি কার্ড বা প্যামফ্লেট বিতরণ করা। আার্থ-সামাজিক সমীক্ষার নামে ভোটারদের নাম, রেশন কার্ড নম্বর, ঠিকানা, ফোন নম্বর, বুথ নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ইত্যাদি বিশদ বিবরণ দেওয়ার উপযোগী ফর্ম বিতরণ করা। ওয়েব প্ল্যাটফর্ম কিংবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তি ভোটারের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি চাওয়া। চালু বিভিন্ন প্রকল্পের প্রাপকদের নাম ইত্যাদি বিশদ বিবরণ দিয়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়া।

সূত্র: পি আই বি