ওয়েব ডেস্ক ; ৫ জুন : কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক ২০২৩-২৪ সালের জন্য প্রধান কৃষি ফসলগুলির উৎপাদনের তৃতীয় আনুমানিক হিসাব প্রকাশ করেছে। গত কৃষিবর্ষ থেকে গ্রীষ্মকালীন শস্য ও রবিশস্যের হিসাব আলাদাভাবে করা শুরু হয়েছে। এবারের আনুমানিক হিসাবে খরিফ, রবি ও গ্রীষ্মকালীন শস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মূলত রাজ্য কৃষি পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষগুলির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব তৈরি হয়েছে। রিমোট সেন্সিং, সাপ্তাহিক শস্য ও আবহাওয়া নজরদারি গোষ্ঠী এবং অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এগুলি যাচাই করা হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিস্থিতি, পূর্ববর্তী প্রবণতা, দামের ওঠা-পড়া, বাজারে সব্জির যোগান প্রভৃতিও এই হিসাব তৈরির সময়ে বিবেচনা করা হয়।
বিভিন্ন শস্য উৎপাদনের আনুমানিক পরিমাণ নীচে দেওয়া হল:
মোট খাদ্যশস্য-৩,২৮৮.৫২ লক্ষ টন
- ধান- ১,৩৬৭ লক্ষ টন
- গম- ১,১২৯.২৫ লক্ষ টন
- ভুট্টা- ৩৫৬.৭৩ লক্ষ টন
- শ্রীঅন্ন – ১৭৪.০৮ লক্ষ টন
- অড়হড় ডাল – ৩৩.৮৫ লক্ষ টন
- কলাইয়ের ডাল- ১১৫.৭৬ লক্ষ টন
মোট তৈলবীজ- ৩৯৫.৯৩ লক্ষ টন - সয়াবীন- ১৩০.৫৪ লক্ষ টন
- রেপসিড ও সরিষা- ১৩১.৬১ লক্ষ টন
আখ- ৪,৪২৫.২২ লক্ষ টন
তুলো- ৩২৫.২২ লক্ষ বেল(প্রতিটি ১৭০ কিলো করে)
পাট- ৯২.৫৯ লক্ষ বেল(প্রতিটি ১৮০ কিলো করে)
এবার মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ হতে চলেছে ৩,২৮৮.৫২ লক্ষ টন, যা গতবছর ২০২২-২৩-এর থেকে সামান্য কম হলেও গত ৫ বছরের(২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩) গড় উৎপাদনের থেকে ২১১ লক্ষ টন বেশি।
চালের মোট উৎপাদন ধরা হয়েছে ১,৩৬৭ লক্ষ টন। ২০২২-২৩ সালে এই পরিমাণ ছিল ১,৩৫৭.৫৫ লক্ষ টন। অর্থাৎ এবার উৎপাদন ৯.৪৫ লক্ষ টন বাড়তে চলেছে। গমের উৎপাদন ১,১২৯.২৫ লক্ষ টন হবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা গতবছরের তুলনায় ২৩.৭১ লক্ষ টন বেশি।
শ্রীঅন্নের উৎপাদন এবার ১৭৪.০৮ লক্ষ টন অনুমান করা হয়েছে, যা ২০২২-২৩-এর তুলনায় ০.৮৭ লক্ষ টন বেশি। দানাশস্যের উৎপাদন এবার ৫৪৭.৩৪ লক্ষ টন হবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা গড় উৎপাদনের থেকে ৪৬.২৪ লক্ষ টন বেশি।
অড়হড় ডালের উৎপাদন ৩৩.৮৫ লক্ষ টন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা গতবছরের ৩৩.১২ লক্ষ টনের থেকে ০.৭৩ লক্ষ টন বেশি। মুসুর ডালের উৎপাদন ১৭.৫৪ লক্ষ টন হতে পারে, যা গতবছরের ১৫.৫৯ লক্ষ টনের তুলনায় ১.৯৫ লক্ষ টন বেশি।
সয়াবীনের উৎপাদন ১৩০.৫৪ লক্ষ টন হতে পারে। রেপসিড ও সরিষার উৎপাদন হতে পারে ১৩১.৬১ লক্ষ টন, যা গতবছরের তুলনায় ৫.১৮ লক্ষ টন বেশি। তুলোর উৎপাদন হতে চলেছে ৩২৫.২২ লক্ষ বেল(১৭০ কেজি করে), আখের উৎপাদন হতে পারে ৪,৪২৫.২২ লক্ষ টন।
খরিফ শস্যের আনুমানিক হিসাব প্রস্তুত করার সময় ফসল কাটার পরের উৎপাদনকে নেওয়া হয়েছে। কাজে লাগানো হয়েছে ডিজিটাল জেনারেল ক্রপ এসটিমেশন সার্ভের ফল। রবি মরশুমে ১৬টি রাজ্যে এই সমীক্ষা করা হয়েছিল। গ্রীষ্ণকালীন শস্যের উৎপাদন নির্ধারণের জন্য গত ৩ বছরের গড় উৎপাদন বিবেচনা করা হয়েছে।
২০২৩-২৪ সালের তৃতীয় আনুমানিক হিসাবের বিশদ বিবরণ পাওয়া যাবে ওয়েবসাইটে।
