ওয়েব ডেস্ক ; ২৬ জুন : কেন্দ্রীয় ক্রেতা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবন্টন এবং নয়া ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী নতুন দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আন্তর্জাতিক চিনি সংস্থা (আইএসও)-র ৬৪তম কাউন্সিল বৈঠকের উদ্বোধন করেন। এই বৈঠক চলবে ২৭ জুন পর্যন্ত। ৩০টিরও বেশি দেশের বিশেষজ্ঞরা এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন এবং আখ, চিনি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জসমূহ এবং কৌশল নিয়ে তাঁরা আলোচনা করবেন। এর আগে, ২০১২ সালে ভারত ৪১তম আইএসও কাউন্সিল বৈঠকের আয়োজন করেছিল।
উদ্বোধনী ভাষণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, প্রায় ৫ কোটি কৃষক (পরিবারের সদস্য সহ) আখ চাষের সঙ্গে যুক্ত এবং এই শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কৃষক কল্যাণ এবং উপভোক্তা ও শিল্পের স্বার্থরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কেন্দ্র।
চিনি এবং জৈব জ্বালানির ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অগ্রগতি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভারতের অঙ্গীকারের কথা জানান তিনি। চিনির উপর ভারতের সাংস্কৃতিক ও আর্থিক নির্ভরতার কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চিনির ক্রেতা রয়েছে ভারতে এবং জৈব জ্বালানি উৎপাদনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
ভারত সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের সচিব এবং আইএসও-র চেয়ারম্যান সঞ্জীব চোপড়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চিনির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। সেইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় জল সংরক্ষণ ও জৈব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন তিনি। চিনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে দুই শীর্ষ দেশ ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যে আখের গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই উপলক্ষে চিনি ও জৈব শক্তির উপর একটি কর্মশালারও আয়োজন করা হয়। এই কর্মশালায় শিল্পমহলের প্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকরা তাঁদের মত বিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নানা ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে রয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, আখ শিল্পের আধুনিকীকরণ ও ডিজিটাইজেশন, আন্তর্জাতিক চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা প্রভৃতি।
