ওয়েব ডেস্ক ; ১৯ জুলাই : কলকাতা বন্দরের ডক ব্যবস্থাপনায় চীন কলকাতা সার্ভিস (চায়না ক্যালকাটা সার্ভিস – সিসিএস) – এর সূচনা হ’ল। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দর, প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল লাইনস্‌ – এর সঙ্গে যৌথভাবে এই পরিষেবা পরিচালনা করবে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্র পথে প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল লাইনস্‌ কন্টেনার পরিবহণ করে। নতুন এই পরিষেবার ফলে কলকাতার সঙ্গে দূরপ্রাচ্যের বন্দরগুলির মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ গড়ে উঠবে। ঐ বন্দরগুলিতে সাপ্তাহিক পণ্য চলাচলের সূচনা হ’ল।

সিসিএস – এর তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ কোটা রিয়া, কোটা রুকুন এবং কোটা রাকিয়াত কলকাতা থেকে দূরপ্রাচ্যের বন্দরগুলিতে পণ্য পরিবহণ করবে। প্রতিটি জাহাজ ৬২২টিইইউ (টোয়েন্টি ফুট ইক্যুইভ্যালেন্ট ইউনিট) ক্ষমতাসম্পন্ন। এই জাহাজগুলি কম গভীর জলপথে যাতায়াত করতে পারে। কলকাতা থেকে সংশ্লিষ্ট বন্দরে ১০-১২ দিনের মধ্যে পণ্য পরিবহণ করা যাবে। এর ফলে, ভারত ও নেপালের চাহিদা পূরণ হবে। সিয়ামেন – শেকৌ – সিঙ্গাপুর – কলকাতা – সিঙ্গাপুর – সিয়ামেন এই পথে পণ্যবাহী জাহাজগুলি চলাচল করবে। ফলস্বরূপ, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

কলকাতা ডকে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরের ডেপুটি চেয়ারম্যান সম্রাট রাহি ১৮ জুলাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এম ভি কোটা রাকিয়াত-কে তাঁর সঙ্গে বন্দরের ট্রাফিক ম্যানেজার আর এস রাজহংস সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা স্বাগত জানান। এরপর, ২৫ জুলাই কোটা রুকুন কলকাতা বন্দরে আসবে। সাপ্তাহিক এই পরিষেবার ফলে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, বিহার, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি ছাড়াও নেপাল ও ভুটানের আমদানী-রাপ্তানী বাণিজ্যে গতি আসবে।

কলকাতা ডকের এই সাফল্যকে অভিনন্দন জানিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরের চেয়ারপার্সন রথেন্দ্র রমন বলেন, “নতুন এই উন্নয়নের ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আমরা জাহাজগুলিকে কন্টেনার ওঠা-নামার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেবার পরিকল্পনা করেছি। সিসিএস পরিষেবার সূচনায় কলকাতা ডকে পণ্য পরিবহণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে, বন্দরের উন্নয়ন হার বৃদ্ধি পাবে”।