ওয়েব ডেস্ক ; ২৪ সেপ্টেম্বর : মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে এক সাহসী যাত্রার নীল নক্‌শা তৈরি করছে ভারত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই লক্ষ্যে একের পর এক প্রকল্পের অনুমোদন দিচ্ছে। অমৃতকালে আসন্ন চন্দ্রযান-৪ অভিযান, শুক্র প্রদক্ষিণ অভিযানের পাশাপাশি ভারতীয় অন্তরীক্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলায় উদ্যোগী সরকার।

চন্দ্রযান-৪ অভিযান:
চন্দ্রযান-৪ অভিযানের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। এজন্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে জরুরি ভিত্তিতে। চাঁদের মাটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে এনে বিশ্লেষণ করতে চায় ভারত। ২০৪০ সাল নাগাদ চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। চন্দ্রযান-৩ এর সাফল্য এক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করছে, তা বলাই বাহুল্য। গোটা প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২,১০৪.৬ কোটি টাকা।

শুক্র গ্রহ প্রদক্ষিণ:
চাঁদ এবং মঙ্গলের পর শুক্র গ্রহে অভিযান চালাতে তৎপর ভারত। ‘শুক্র প্রদক্ষিণ অভিযান’ – এ ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এজন্য খরচ ধরা হয়েছে ১,২৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে মহাকাশ যান তৈরিতে খরচ হবে ৮২৪ কোটি টাকা। গ্রহ পরিবারে শুক্র গ্রহ ভারতের নিকটতম প্রতিবেশী। মনে করা হয়, এই গ্রহের উৎপত্তির প্রক্রিয়া পৃথিবীর সঙ্গে অনেকটাই এক। সেক্ষেত্রে গ্রহগুলির পরিবেশগত বিবর্তনের ক্ষেত্রে একটা ধারণা তৈরিতে এই অভিযান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতীয় অন্তরীক্ষ কেন্দ্র:
গগন যান কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ভারতীয় অন্তরীক্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে। ২০৩৫ সাল নাগাদ এই কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়। তবে, প্রাথমিক ভিত্তিতে এই কাজ শুরু হবে ২০২৮ সাল থেকে। পুনর্মার্জিত গগনযান কর্মসূচি বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ২০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।
২০২৪ – ২৫ কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমন অত্যাধুনিক প্রকল্প বাবদ মহাকাশ স্টার্টআপ ক্ষেত্রে ১ হাজার কোটি টাকার মূলধনী তহবিল গড়ে তোলার কথা বলেছেন। সরকারের এইসব উদ্যোগের সুবাদে আন্তর্জাতিক মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ এক পক্ষ হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।