ওয়েব ডেস্ক; ২৭ সেপ্টেম্বর : কন্যাসন্তানরা সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর্থিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে সমাজের নানা ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন যেখানে তাঁদের কৃতিত্ব উদযাপন হওয়ার কথা, তাকেই স্বীকৃতি দিতে প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক কন্যাসন্তান দিবস উদযাপন করা হয়। এই দিবস উদযাপনের মাধ্যমে একদিকে যেমন তাঁদের গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়, পাশাপাশি সমাজের সমস্ত ক্ষেত্রে মেয়েদের সশক্তিকরণের প্রয়োজনের দিকটিও ফুটে ওঠে। ভারতে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’-এর অঙ্গ হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৫-র জানুয়ারি মাসে সুকন্যা সমৃদ্ধি অ্যাকাউন্টের সূচনা করে কন্যাসন্তানদের সামাজিক সশক্তিকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন।

১০ বছর বয়স পর্যন্ত কন্যাসন্তানদের জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় ৮.২ শতাংশ হারে সুদে ন্যূনতম ২৫০ টাকা এবং বাৎসরিক সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত এই আমানতে রাখা যাবে, কিন্তু সর্বোচ্চ সীমার ওপর যদি কেউ টাকা রাখেন, তবে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার ওপর কোনো সুদও দেওয়া হয় না। এতে আয়কর ছাড়ও পাওয়া যাবে। পোস্ট অফিস এবং ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে এই অ্যাকাউন্ট দেশের যে কোন জায়গাতেই অনায়াসেই স্থানান্তরযোগ্য। আমানত চালুর পর ১৫ বছর পর্যন্ত তাতে টাকা রাখা যায়। কেউ যদি বাৎসরিক ন্যূনতম টাকা না রাখতে পারেন, সেক্ষেত্রে আমানতটিকে চালু করতে গেলে ৫০ টাকা জমা দিয়ে তা চালু করতে হবে। এই সঞ্চয় প্রকল্প কন্যাসন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার কাজে পিতা-মাতাকে উৎসাহ যোগায়। এর মাধ্যমে তাঁদের পড়াশোনা বা বিয়ের খরচ মেটানো সম্ভব হয়। এর মূলগত উদ্দেশ্য হল, কন্যাসন্তানরাও যাতে অনুরূপ সুযোগ পেয়ে সমাজে বড় হয়ে উঠতে পারেন। তাঁরা তাঁদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেন এবং সমাজ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। এই সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার মাধ্যমে ভারতীয় ডাকঘর ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ অভিযানকে দেশের সর্বত্র সার্থকতার সঙ্গে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে এই যোজনার আওতায় গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ২০ লক্ষ।

এ বছর আন্তর্জাতিক কন্যাসন্তান দিবসে সুকন্যা সমৃদ্ধি গ্রাম যোজনা বিশেষ সাড়া ফেলেছে। দেশের অনেক গ্রামে ১০ বছর পর্যন্ত বয়সী কন্যাসন্তানদের জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি অ্যাকাউন্ট খোলায় এই যোজনা বস্তুত সুকন্যা সমৃদ্ধি গ্রাম যোজনার রূপান্তরিত হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক কন্যাসন্তান দিবসে উত্তর গুজরাট অঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল কৃষ্ণ কুমার যাদব জানান যে, উত্তর গুজরাটের ৫০০টি গ্রাম সুকন্যা সমৃদ্ধি গ্রাম হয়ে উঠেছে। এইসব গ্রামগুলিতে কন্যাসন্তানের জন্মের পরেই ডাক পিয়ন সেইসব বাড়িতে গিয়ে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার আওতায় অ্যাকাউন্ট খুলতে পরিবারগুলিকে সাহায্য করেন। এই সদর্থক কর্মপ্রয়াসের মাধ্যমে উত্তর গুজরাট এলাকাতেই কেবল ৪ লক্ষ ৫০ হাজার সুকন্যা আমানত খোলা হয়েছে। সমগ্র গুজরাট সার্কেলে এর সংখ্যা ১৫ লক্ষ ২২ হাজার।

কন্যাসন্তানের বয়স ১৮ বছর হওয়া পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্ট তাঁর অভিভাবকের তত্ত্বাবধানেই থাকে। এরপর ১৮ বছর হয়ে গেলে বয়সের প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে কন্যাসন্তান সেই আমানতের অধিকার পেতে পারেন। এই অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে শুরুর দিন থেকে আমানতকারীর ২১ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া হলে এই অ্যাকাউন্টটি ম্যাচিওর করবে। শুধুমাত্র পড়াশোনার খরচের স্বার্থে এই অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০ শতাংশ টাকা তোলার আবেদন করতে পারা যাবে, তবে সেক্ষেত্রে আমানতকারীর বয়স ১৮ হতে হবে অথবা তাঁকে দশম শ্রেণী উত্তীর্ণ হতে হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার যে কেবল সঞ্চয়ের প্রসার ঘটাচ্ছে তাই নয়, তার পাশাপাশি কন্যাসন্তানদের শিক্ষাখাতে এবং সশক্তিকরণে বিনিয়োগে উৎসাহ যোগাচ্ছে।

কন্যাসন্তানদের সামাজিক উত্তরণের লক্ষ্যে সরকার অসংখ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজে কেবলমাত্র কন্যাসন্তানদের গুরুত্বকে পরিচিতি দেওয়াই নয়, তার পাশাপাশি তাঁদের সম্ভাবনা, সামর্থ্য এবং লক্ষ্যকে পূরণ করতে সমাজ যাতে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসে, সেই মনোভাব গড়ে তোলাও এর লক্ষ্য।