ওয়েব ডেস্ক; ৪ জানুয়ারি: বিশ্বে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে ২০২৩ সালে ভারত ষষ্ঠ বৃহৎ রপ্তানিকারী দেশ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৩-২৪-এ হস্তশিল্প সহ বস্ত্র এবং পোশাক শিল্পে রপ্তানি ক্ষেত্রে ভারত উল্লেখযোগ্য ৮.২১ শতাংশ স্থান দখল করে। বস্ত্র ও পোশাক ক্ষেত্রে বিশ্ব বাণিজ্যে আমাদের দেশের অংশ ৩.৯ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের বস্ত্র এবং পোশাক রপ্তানির প্রধান গন্তব্য, যা প্রায় দেশের বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানির ৪৭ শতাংশ জায়গা দখল করে নিয়েছে। ভারত বস্ত্র ও পোশাকের এক বৃহৎ রপ্তানিকারী দেশ হিসেবে পরিগণিত, এক্ষেত্রে দেশে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। শিল্পের প্রয়োজনের দিকে তাকিয়ে এবং পুনঃরপ্তানির ক্ষেত্রে বৃহৎ আমদানির বেশির ভাগ অংশটাই জুড়ে রয়েছে কাঁচামাল।
বিশ্ব চাহিদা, অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও প্রয়োজন মিটিয়ে অর্ডার মাফিক, লজিস্টিক্স সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাহিদা ও সরবরাহের সঙ্গে সংগতি রেখে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। রপ্তানি ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। লোহিত সাগর সঙ্কট, বাংলাদেশ সঙ্কট প্রভৃতির কারণে ২০২৪ আর্থিক বছরে প্রাথমিকভাবে রপ্তানি খানিকটা নিম্নমুখী ছিল। ২০২৪-এর জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসের রপ্তানিতে এর প্রভাব পড়ে।
হস্ত শিল্প সহ বস্ত্র এবং পোশাকে সার্বিক রপ্তানি ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবরে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে মোট রপ্তানি ২২,০০৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২১,৩৫৮ মিলিয়ন ডলার।
মোট ৮,৭৩৩ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি যদি হয়ে থাকে, তার মধ্যে তৈরি পোশাকের রপ্তানি ক্ষেত্রের ভাগ সব থেকে বেশি – ৪১ শতাংশ। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২১,৩৫৮ মিলিয়ন ডলার। এরপরের স্থানে ছিল তাঁতবস্ত্র। যার অর্থমূল্য ৭,০৮২ মিলিয়ন ডলার, শতাংশের হিসেবে ৩৩। হাতে তৈরি বস্ত্রের আর্থিক মূল্য ৩,১০৫ মিলিয়ন ডলার, শতাংশের হিসেবে ১৫।
পশম এবং তাঁতের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১৯ এবং ৬ শতাংশ হ্রাস বাদ দিলে ২০২২-২৩ আর্থিক বছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে এপ্রিল থেকে অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত প্রধান পণ্যের ক্ষেত্রে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২২-২৩ অর্থবছরে ১০,৪৮১ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় বস্ত্র ও পোশাক ক্ষেত্রে আমদানি ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে প্রায় ১৫% হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় ৮,৯৪৬ মিলিয়ন ডলারে।
হস্তশিল্প সহ বস্ত্র ও পোশাক ক্ষেত্রে সার্বিক আমদানি ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে ৫,৪৬৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবরের মধ্যে ১% হ্রাস পেয়ে ৫,৪২৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।
২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে এপ্রিল থেকে অক্টোবরের মধ্যে মোট আমদানি ৫,৪২৫ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হাতে তৈরি পোশাকের ভাগ ছিল সর্বাধিক ৩৪% অর্থাৎ ১,৮৫৯ মিলিয়ন ডলার।
প্রধানত, দীর্ঘস্থায়ী তাঁত তন্তুর আমদানির ফলে তাঁত বস্ত্রের ক্ষেত্রে আমদানি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এই আমদানি বৃদ্ধি দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিকেও সূচিত করে, যা দেশের স্বনির্ভরতা এবং বাড়তি ব্যবহারিক চাহিদার মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
