ওয়েব ডেস্ক; ০৬ জানুয়ারি : এশিয়ার সবচেয়ে বড় বিমান প্রদর্শনী এরো ইন্ডিয়া, ২০২৫-এর পঞ্চদশ সংস্করণ ১০-১৪ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত হবে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর ইয়েলাহাঙ্কা এয়ারফোর্স স্টেশনে। এবারের থিম, ‘দ্য রানওয়ে টু আ বিলিয়ন অপারচুনিটিজ’। এই অনুষ্ঠান বিদেশি এবং ভারতীয় সংস্থাগুলির মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ার মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। দেশজ উৎপাদন প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করতে আন্তর্জাতিক মূল্য শৃঙ্খলের নতুন নতুন রাস্তা খুঁজে নিতে সাহায্য করবে।

অনুষ্ঠানের প্রথম তিনদিন বাণিজ্যিক কাজের জন্য নির্ধারিত আছে। ১৩ ও ১৪ – এই দু’দিন মানুষ বিমান প্রদর্শনী দেখতে পাবেন। ওই অনুষ্ঠানের মধ্যে আছে উড়ানের নানা কলা-কৌশলের পাশাপাশি একটি স্থায়ী প্রদর্শনী।

পুরো অনুষ্ঠানে যবনিকা উত্তোলনের পাশাপাশি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। এছাড়া আছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সম্মেলন, সিইও-দের গোলটেবিল বৈঠক, মন্থন স্টার্ট-আপ অনুষ্ঠান, শ্বাসরুদ্ধকর বিমান প্রদর্শনী এবং একটি বিশাল প্রদর্শনী যেখানে থাকবে ভারতের প্যাভিলিয়ন এবং বিভিন্ন বিমান কোম্পানির পণ্যসম্ভার।

বন্ধু দেশগুলির সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনার সুযোগ দিতে ভারত প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সম্মেলনের আয়োজন করবে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক আস্থা-ভিত্তিক সমৃদ্ধি সহ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে। নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ এবং সচিব স্তরে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে। নজর দেওয়া হবে, প্রতিরক্ষা ও উড়ান ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের ওপর, যাতে সেই অংশীদারিত্বকে পরবর্তী স্তরে পৌঁছে দেওয়ার রাস্তা বেরিয়ে আসে।

ভারতীয় প্যাভিলিয়নে থাকবে মেক ইন ইন্ডিয়ার প্রতিফলন। দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির ক্ষমতা এবং বিশ্বস্তরে পরিবেশন করার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারিক দক্ষতা তুলে ধরা হবে এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে। এরো ইন্ডিয়া, ২০২৫-এ ভারতীয় স্টার্ট-আপগুলির ওপর আলোকপাত করা হবে। তাদের দ্বারা নির্মিত নানা প্রযুক্তি এবং পণ্য প্রদর্শিত হবে শুধুমাত্র তাদের জন্যই নির্দিষ্ট আইডেক্স প্যাভিলিয়নে।

এছাড়া, চিত্তাকর্ষক এরোবেটিক প্রদর্শনী এবং লাইভ প্রযুক্তির প্রদর্শন করা হবে যার থেকে বোঝা যাবে আধুনিক এরোস্পেস প্ল্যাটফর্ম এবং প্রযুক্তির সম্ভাবনার দিকটি।

এরো ইন্ডিয়া সারা বিশ্বে একটি বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। বেঙ্গালুরুতে ১৯৯৬ থেকে সফলভাবে ১৪টি প্রদর্শনী হয়েছে। গত সংস্করণে মাইলফলক অর্জন করা গেছে যেখানে ৭ লক্ষের ওপর দর্শক, ৯৮টি দেশের প্রতিনিধি এবং ৮০৯ জন প্রদর্শক যোগ দেন। ২০১টি সমঝোতা সহ ২৫০টির বেশি অংশীদারী চুক্তি সম্পাদিত হয়, গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘোষণা করা হয়। নতুন পণ্য বাজারজাত হয়। ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রযুক্তি হস্তান্তরিত হয়। ২০২৫ সংস্করণের লক্ষ্য ওই সাফল্যকে পেরিয়ে যাওয়া এবং আরও বড় লক্ষ্য অর্জন করা।