ওয়েব ডেস্ক ; ১৩ ফেব্রুয়ারি: বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (বিএসআই) কলকাতায় ১৩৬ তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করল যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে। একই সঙ্গে শুরু হল তৃতীয় প্ল্যান্ট ট্যাক্সোনমি, এথনোবোটানি, বোটানিক গার্ডেনস এবং বায়োডাইভার্সিটি বিষয়ে ৩ দিনের আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্র। উপস্থিত ছিলেন বিএসআই – এর অধিকর্তা ডঃ আশিহো আসোসি মাও, জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অধিকর্তা ডঃ ধৃতি ব্যানার্জী এবং দেশ বিদেশের খ্যাতনামা উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা।

একই সঙ্গে দুটি অনুষ্ঠানের সূচনা করে ডঃ মাও বলেন, এত বড় মাপের অনুষ্ঠানে ভারতে বিজ্ঞান এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন উদ্ভিদ বিজ্ঞানী, গবেষক এবং সংরক্ষণবিদরা। তিনি আরও বলেন, ভারত অন্যতম জীব ও উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের দেশ, যার পরিবেশগত, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁর কথায়, দেশ যখন ২০৪৭ – এর বিকশিত ভারতের দিকে এগোচ্ছে, তখন উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণায় প্ল্যান্ট ট্যাক্সোনমি এবং জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সুস্থায়ী উন্নয়নে বোটানিক গার্ডেনের ভূমিকায় বিএসআই –এর প্রয়াসের পর্যালোচনা করা আবশ্যিক হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের সম্মেলন উদ্ভাবনীমূলক রণকৌশল, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় নীতির আবশ্যিকতা প্রকাশ করে, যাতে ভারতের জীববৈচিত্র্য সুস্থায়ী হয়।
জেডএসআই – এর অধিকর্তা ডঃ ব্যানার্জী তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে বিএসআইকে অভিনন্দন জানান এখনও প্রাসঙ্গিক থাকার জন্য এবং অর্থবহ ১৩৬ বছরের দীর্ঘ যাত্রার জন্য। তিনি প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা জানান। তিনি এশিয়াটিক সোসাইটিতে একই সঙ্গে এই দুই প্রতিষ্ঠানের যাত্রার সূচনার ঐতিহ্য স্মরণ করে জেডএসআই এবং বিএসআই – এর ‘বিরাসত’ এবং ‘বিকাশ’ ছাড়াও দুটি সংস্থার সুস্থায়ী উন্নয়ন এবং নেতৃত্বদান বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি দুটি প্রতিষ্ঠানকে জৈব ঐতিহ্যের অভিভাবক এবং পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষার স্থপতি হিসেবে বর্ণনা করেন। পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষায় দুই সংস্থার প্রাসঙ্গিকতারও উল্লেখ করেন তিনি।
ন্যাশনাল বায়োডায়ভার্সিটি (এনবিএ)-এর সদস্য সচিব ডঃ বি বালাজি, পরিবেশ, অরণ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের বিজ্ঞানী জি রঘুনাথ কুমার কোদালি, ওয়েস্ট বেঙ্গল বায়োডাইভার্সিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডঃ হিমাদ্রিশেখর দেবনাথ এবং বিএসআই- এর রিসার্চ অ্যাডভাইসরি অ্যান্ড মনিটরিং কমিটির অধ্যাপক সি আর বাবুও অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে বিএসআই প্রকাশিত ফ্লোরা অফ ইন্ডিয়া, বুক অফ অ্যাবস্ট্র্যাকটস ইত্যাদি বইয়ের আবরণ উন্মোচন হয়।
তিনদিনের এই সম্মেলনের সমাপ্তি হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।