ওয়েব ডেস্ক; ১৭ এপ্রিল : ভারত সরকারের ওয়ার্ল্ড অডিও ভিস্যুয়াল এন্টারটেইনমেন্ট সামিট (ওয়েভস) এর আওতায় ক্রিয়েটিভ ইন্ডিয়া চ্যালেঞ্জ সেশন ১ –এ ‘রোড টু গেম জ্যাম’ থেকে শীর্ষ ১০টি গেম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের উদ্ভাবনী গেম ডেভেলপাররা জায়গা করে নিয়েছেন। মুম্বইয়ে পয়লা মে থেকে চৌঠা মে অনুষ্ঠিত ওয়েভস সামিটে তাদের এই বিষয়গুলি প্রদর্শিত হবে।
‘রোড টু গেম জ্যাম’ হল ভারতের গেম ডেভেলপারদের জন্য সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী প্রদর্শনের এক অনন্য সুযোগ। AVGC – XR (অ্যানিমেশন, ভিস্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং অ্যান্ড কমিকস এর সঙ্গে অগমেন্টেড রিয়েলিটি / ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং মেটাভার্স) ওপর বিশেষ জোর দিয়ে গেম ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (জিডিএআই) এবং KGeN (ক্রাটোস গেমার নেটওয়ার্ক) এর সহযোগিতায় এই উদ্যোগটি ওয়েভস-এ পিলার টু এর আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল উদীয়মান প্রতিভাকে একটি জাতীয় মঞ্চ প্রদানের মাধ্যমে সৃজনশীলতা বিকাশে উৎসাহিত করা এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান গেম ডেভেলপমেন্ট ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করে তোলা।
ভারতের ৪৫৩ টি শহরের ১৬৫০ টিরও বেশি কলেজ থেকে ৫৫০০ জনেরও বেশি তরুণ এতে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। বেশ কয়েকদফা বাছাই পর্বের পর ১৭৫ টিরও বেশি দল তাদের গেমস জমা করে। রোড টু গেম জ্যাম-এর মাধ্যমে নির্বাচিত সেরা ১০ টি গেম পয়লা মে থেকে চৌঠা মে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়েভস সামিটে প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে থেকে প্রথম তিনটি দলকে মোট ৭ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। প্রথম স্থানাধিকারী দল পাবে ৩.৫ লক্ষ, দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দল পাবে ২ লক্ষ এবং তৃতীয় স্থানাধিকারী দল পাবে ১.৫ লক্ষ টাকা। গেম জ্যামের প্রতিটি থিম অংশগ্রহণকারীদের সৃজনশীলতার সঙ্গে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে।
গেম ডেভেলপমেন্ট ক্ষেত্রে ভারত দ্রুত একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে আর্বিভূত হচ্ছে। ভারতের প্রথম সারির ইন্টারেক্টিভ মিডিয়া এবং গেমিং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম লুমিকাইয়ের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে দেশে ৫৫০ মিলিয়নেরও বেশি গেমার রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশেরও বেশি ৩৫ বছরের কম বয়সীরা রয়েছেন। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী প্রকাশক, স্টুডিও এবং মঞ্চগুলি ভারতীয় প্রতিভার উন্নয়ন এবং এক্ষেত্রে বিনিয়োগে ক্রমশই আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাই এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী গেমিং ইকোসিস্টেমে ভারতের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোড টু গেম জ্যাম ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের গেম ডেভেলপারদের শুধু প্রতিভা এবং কল্পনাশক্তিকেই তুলে ধরেনি, একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী গেমিং মঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দেশের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতাও প্রদর্শিত করেছে। পাশাপাশি শিল্প পরামর্শদাতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলিকে একত্রিত করে এই উদ্যোগকে শক্তিশালী এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক গেম ডেভেলপমেন্ট ইকোসিস্টেমের ভিত্তি তৈরি করেছে।
