ওয়েব ডেস্ক; ১৯ জুলাই : ভারতের কৃষি গবেষণা পর্ষদ ও কেন্দ্রীয় অভ্যন্তরীণ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইসিএআর – সিআইএফআরআই), ব্যারাকপুর, “জাতীয় উন্মুক্ত উৎস ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা সংক্রান্ত দিবস” উদযাপন উপলক্ষে মুম্বইয়ের আইআইটিতে “জাতীয় ভূ-স্থানিক পেশাদার পুরস্কার ২০২৫”-এ ভূষিত হয়েছে।
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রাক্তন চেয়ারম্যান, পদ্মশ্রী ডঃ এ এস কিরণকুমার সিআইএফআরআই-এর অধিকর্তা ডঃ বি কে দাস-এর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
এই সম্মান আইসিএআর – সিআইএফআরআই-এর মৎস্য গবেষণা ও পরিবেশের নজরদারিতে ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির প্রসংশনীয় ব্যবহারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রদান করা হয়েছে। গত দুই দশকে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে তার নানা প্রযুক্তি-ভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, যেগুলির মাধ্যমে মানচিত্র বিশ্লেষণ, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সুস্থায়ী অভ্যন্তরীণ মাছচাষ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ অবদানের প্রতিফলন।
প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কৃতিত্ব হল আধা-স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ০.২ হেক্টরের অধিক আয়তনের জলাশয়ের সীমানা নির্ধারণ। এটি বিভিন্ন উপগ্রহ চিত্রের সহায়তায় করা হয়েছে এবং সংগৃহীত মাছের ক্ষেত্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি লাভের পর এবং উৎপাদনের তথ্য দ্বারা যাচাই করা হয়েছে।
“নমামি গঙ্গে” কর্মসূচির আওতায়, গঙ্গা নদী অববাহিকায় মৎস্য সম্পর্কিত ভূস্থানিক সরঞ্জামের সাহায্যে চিত্রায়ন ও ব্যবস্থাপনার কাজ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি ছোট জলাশয় এবং ডুবে থাকা জলজ উদ্ভিদের মানচিত্রায়নে আকাশযান বা ড্রোনের ব্যবহারের অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছে, যা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ও আগাছা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
সিআইএফআরআই সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত উৎস প্রযুক্তির উপর নির্ভর জাতীয় অনলাইন মানচিত্র ভিত্তিক তথ্যব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। তারা ইতিমধ্যেই ২০টি রাজ্যের জলাশয়ের মানচিত্র প্রস্তুত করেছে এবং “জলাশয় তথ্যব্যবস্থা” সহ একাধিক ডিজিটাল পরিকাঠামো তৈরি করেছে।
দূরসংবেদী পদ্ধতির প্রয়োগে তারা ক্লোরোফিল-এ, জলতাপমাত্রা ও অম্লত্ব নিরীক্ষণ করে পরিবেশগত গুণমান নিশ্চিত করছে।
সংস্থার উন্নত ভূ-পরিসংখ্যান গবেষণার মধ্যে রয়েছে মাছ প্রজাতির বৈচিত্র্য বিশ্লেষণের জন্য সম্ভাব্যতা-ভিত্তিক পরিসংখ্যান, প্ল্যাংকটনের গতিশীলতা বোঝার জন্য বাকি ত্রুটি বিশ্লেষণ এবং সময়-স্থান অনুসারে হ্রদ বা নদীর জল বিস্তৃতি ও মোহনা অঞ্চলে ইলিশ মাছের আভাস নির্ধারণ।
এছাড়াও, বর্তমানে ৫০-এর বেশি গবেষক এই প্রতিষ্ঠানে গবেষণায় যুক্ত এবং শতাধিক পেশাদার ও শিক্ষার্থীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ-প্রদত্ত দুটি শীতকালীন বিদ্যালয়ও পরিচালিত হয়।
এইভাবে সিআইএফআরআই উন্মুক্ত উৎস ভূ-স্থানিক সরঞ্জাম ব্যবহারে মৎস্যবিজ্ঞানে জাতীয় পর্যায়ের পথপ্রদর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উন্নীত হয়েছে।
“জাতীয় ভূ-স্থানিক পুরস্কার” দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করেছে। “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা”-র আওতায় জাতীয় লক্ষ্যের অংশ হিশেবে মুম্বইয়ের আইআইটিতে এই পুরস্কার প্রদান করে।
পুরস্কারের লক্ষ্য উন্মুক্ত উৎস প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারতের ভূ-তথ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবিশেষকে সম্মানিত করা। জাতীয় ভূ-স্থানিক নীতি ২০২২ এবং ভারতীয় মহাকাশ নীতি ২০২৩-এর উদ্দেশ্যকে এই পুরস্কার সমর্থন করে।
