ওয়েব ডেস্ক; ২০ জুলাই : ভারতী এন্টারপ্রাইস আনন্দের সাথে ঘোষণা করছে যে তাদের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, সুনীল ভারতী মিত্তলকে বাথ ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড কিংডম (ইউকে) বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে সাম্মানিক ডক্টরেট উপাধি প্রদান করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিল্পোদ্যোগ ও জনহিতৈষী কাজকর্মে মিত্তলের অবদানকে স্মরণ করে, ঐতিহাসিক বাথ অ্যাবেতে আয়োজিত এই বিশ্ব বিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন স্নাতকত্ব লাভ অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।
মিত্তল ভারতীয় টেলিকমিউনিকেশন বিপ্লবের অন্যতম পথিকৃৎ এবং ভারতী এয়ারটেল, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই টেলিকম কোম্পানির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। টেলিকম ও ডিজিটাল পরিকাঠামো থেকে আর্থিক পরিষেবা ও মহাকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিভিন্ন ক্ষেত্র জুড়ে তাঁর নেতৃত্ব ও শিক্ষার সমান উপলব্ধতার প্রতি তাঁর স্থির নিষ্ঠা, উদ্দেশ্য, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক সুস্পষ্ট নিদর্শন।
এই প্রসঙ্গে ইউনিভার্সিটি অফ বাথের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রফেসর ফিল টাইলর বলেন, “শিল্পোদ্যোগ, নেতৃত্ব ও সমাজ সেবায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য রাখার জন্য সুনীল ভারতী মিত্তলকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। উনি যে শুধুমাত্র বিশ্বের অন্যতম সেরা শিল্পোদ্যোগ তৈরি করেছেন তাই নয়, সেইসঙ্গে তাঁর জনহিতকর কার্যকলাপ থেকে 37 লক্ষের বেশি বাচ্চার জীবন শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নের মাধ্যমে বদলে গেছে। সমাজকে ফেরত দেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে এক শক্তিশালী বার্তা তিনি আমাদের স্থাতক হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমরা আশা রাখি। আমাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গোষ্ঠীতে তাঁর পুত্র ও কন্যার সাথে যোগ দেওয়ার জন্য আমি শ্রী মিত্তলকে স্বাগত জানাচ্ছি, তাঁর সন্তানেরা আমাদের স্কুল অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ফ্যাকাল্টি অফ হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স থেকে পূর্বে স্নাতক হয়েছেন।”
বাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউকে-এর সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির একটি, যা উচ্চমানের গবেষণা, শিক্ষার উৎকর্ষতা ও শিক্ষার্থীদের দুর্দান্ত অভিজ্ঞতার জন্য সুপরিচিত। ইউকে-এর প্রথম দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান পাওয়া এবং আন্তর্জাতিকভাবে সেরা 10%-এর (QS 2026) মধ্যে থাকা, ইউনিভার্সিটি অফ বাথ সারা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলি মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে সামনের সারিতে রয়েছে। এদের শিক্ষা ও গবেষণার নীতি, বাস্তব জগতের প্রাসঙ্গিকতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মধ্যে গভীরভাবে নিহিত থাকে।
ডক্টরেট সম্মান লাভ করার বিষয়ে মিত্তল বলেন, “প্রবল বুদ্ধিমত্তা, শিল্পোদ্যোগের মানসিকতা ও ক্লাসরুমের শিক্ষা ছাড়িয়ে বাইরের জগতের সাথে সংযোগ তৈরি করার জন্য সুপ্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান, ইউনিভার্সিটি অফ বাথের কাছ থেকে এই স্বীকৃতি পেয়ে আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমার যে পারিবারিক সংযোগ রয়েছে তা এই মুহূর্তকে আরও অর্থপূর্ণ করেছে। শিক্ষা সুযোগের দরজা খুলে দেওয়ার, গোটা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ও দেশ গঠন করার ক্ষমতা রাখে আর এই শিক্ষার উপর আমার চিরকাল আস্থা রয়েছে। বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র ও শিক্ষায় ভারত-ইউকে-এর সহযোগিতা দ্রুত উন্নত করার কাজে আমি সদা-নিয়োজিত থাকার অঙ্গীকার নিয়েছি, এই দুই দেশেই অসাধারণ দক্ষতা ও অগণিত প্রতিভা রয়েছে।”
বাথ ইউনিভার্সিটির সম্মানের সাথে মিত্তল নবম সাম্মানিক ডক্টরেট এবং ইউকে-এর একটি প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় উপাধিটি পেলেন। এর আগে তাঁকে 2009 সালে ডক্টর অফ লজ (সাম্মানিক) স্বীকৃতি দিয়েছিল ইউনিভার্সিটি অফ লীডস এবং 2012 সালে ডক্টর অফ সিভিল ল (সাম্মানিক) স্বীকৃতি দিয়েছিল নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি।
