ওয়েব ডেস্ক; ১৭ আগস্ট: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পড়ুয়াদের উদ্দেশে ‘একদিন বিজ্ঞানী হিসেবে কাটাবার’ যে আহ্বান রেখেছিলেন, তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে স্বাস্থ্য গবেষণা দপ্তর এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) ৭ ও ৮ অগাস্ট, ২০২৫ দেশব্যাপী এক কর্মসূচি নেয়। এর নাম দেওয়া হয় শাইন। এর আওতায় পরবর্তী প্রজন্মকে বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কাজ করার উৎসাহ দেওয়া হয়।

১৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৩৯টি জেলার ৩০০টিরও বেশি স্কুলের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ১৩,১৫০ জন পড়ুয়াকে বিভিন্ন আইসিএমআর প্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের স্বাস্থ্য ও বায়োমেডিক্যাল গবেষণার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য, গবেষণা দপ্তরের সচিব এবং আইসিএমআর-এর মহানির্দেশক ডঃ রাজীব বাহাল অনুষ্ঠানে বলেন, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা জাগিয়ে তুলতে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎসাহ দিতে এ এক অনন্য প্রয়াস। যারা আজ আইসিএমআর-এ এসেছে, তারা নিছক ঘুরতে আসেনি, ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক হয়ে ওঠার আমন্ত্রণ তাদের জন্য রইলো। পড়ুয়াদের সব কিছু ঘুরে দেখে প্রশ্ন করার এবং বৈজ্ঞানিকদের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি। কৌতুহল, প্রমাণ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা- এই তিনটি উপাদানের মধ্যে দিয়ে বিকশিত ভারতের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই কর্মসূচির আওতায় ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষাগারে ঘোরানো হয়, গবেষণা সংক্রান্ত প্রদর্শনী, পোস্টার ও ভিডিও দেখানো হয়, বিভিন্ন চলতি বৈজ্ঞানিক কাজের সম্পর্কে জানানো হয়। আইসিএমআর-এর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলাপচারিতার সুযোগ পায় পড়ুয়ারা। এই অভিজ্ঞতাকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে ডঃ কিউরিও নামে একটি ম্যাসকট-ও পড়ুয়াদের সঙ্গে সারাদিন ছিল।

পড়ুয়ারা আইসিএমআর-এর প্রধান কাজকর্ম নিয়ে ৪টি স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র দেখে। এগুলি হল, ভারতের দেশীয় টিকা, কো-ভ্যাকসিনের আবিস্কার, স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের জন্য আই ড্রোন উদ্যোগ, ভারতের যক্ষ্মা নির্মূলকরণ প্রয়াস এবং ভবিষ্যতের অতিমারীর মোকাবিলায় দেশ জুড়ে বিশানু যুদ্ধ অভ্যাস শীর্ষক মহড়া।

৮ অগাস্ট হল আইসিএমআর-এর প্রাক্তন মহানির্দেশক, বিশিষ্ট ভারতীয় বিজ্ঞানী ডঃ ভুলিমিরি রামালিঙ্গস্বামী-র ১৪০-তম জন্মবার্ষিকী। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গবেষকদের প্রাণিত করবে।