ওয়েব ডেস্ক; ১৩ সেপ্টেম্বর : কৃষ্ণনগরে অনুষ্ঠিত হল প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো’র নিয়মিত কর্মসূচি ‘বার্তালাপ’। নদিয়া জেলায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশিবিরে মূল আলোচনা হয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যাংকিং- এ সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে। স্থানীয় সাংবাদিক এবং ব্যাংকিং ও উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
কর্মশিবিরের শুরুতে ‘এক পেড় মা কে নাম’ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর পূর্বাঞ্চলীয় মহাষির্দেশক টি.ভি.কে. রেড্ডি একটি চারাগাছ রোপণ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পি আই বি-র অতিরিক্ত মহানির্দেশিকা (এম অ্যান্ড সি) মিস জেন নামচু ও অন্যান্য আমন্ত্রিত গণ্যমান্যরা।
রেড্ডি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী বক্তব্যে পি আই বি-র কাজের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই পি আই বি-র মূল দায়িত্ব। অপারেশন সিন্দুরের সময় পি আই বি-র ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
কর্মশিবিরে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের লিড ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার অনুপ ডুংডুং প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে এই প্রকল্পের ভূমিকার কথা বলেন। মাছ চাষিদের ঋণ পেতে সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দেন।
নাবার্ড-এর আধিকারিক সৈকত দে কৃষকদের অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণদাতাদের হাত থেকে মুক্ত করার কাজের কথা বলেন। তিনি আর্থিক সাক্ষরতার প্রয়োজনীয়তার ওপর-ও জোর দেন। নিরাপদ ব্যাংকিং-এর জন্য ১৬০ ও ১৪০ কোডের মাধ্যমে সত্যিকারের ব্যাংক কল চেনার কথা বলেন তিনি। নদিয়ায় পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের সাথে মিলে পাঁচটি আর্থিক সাক্ষরতা কেন্দ্র চালানোর কথাও জানান।
আনন্দবাজার পত্রিকার বরিষ্ঠ সম্পাদক ডাঃ দেবদূত ঘোষ ঠাকুর স্বচ্ছ ভারত ও পরিচ্ছন্ন জেলা প্রকল্পে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শোনান। আর্সেনিক বিষক্রিয়ার মতো জনস্বাস্থ্য সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রচলিত স্থানীয় জল সংরক্ষণ পদ্ধতির গুরুত্বের কথা বলেন। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশ আর্সেনিকমুক্ত জল পেয়েছে বলে জানান এবং দেশীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
পি আই বি নিয়মিত এই ধরনের জেলা পর্যায়ের সংবাদ কর্মশিবির আয়োজন করে। স্থানীয় সাংবাদিকদের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত করানোই উদ্দেশ্য। সঠিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে সাহায্য করা হয়। কৃষ্ণনগরের এই অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় গ্রামীণ ব্যাংকিং-এ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তার ওপর। বার্তালাপের শেষে সবাই একমত হন যে, নীতিগত সাফল্য সুস্থায়ী করতে প্রয়োজন সমাজের সাথে নিরন্তর যোগাযোগ। প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং ক্রমাগত জনসচেতনতাও জরুরি।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন-উত্তর পর্বের পর পি আই বি-র কার্যক্রম ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকতায় ভূমিকার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা দেওয়া হয়। সমস্ত অংশগ্রহণকারীর হাতে শংসাপত্র তুলে দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়।
