ওয়েব ডেস্ক; ১০ ডিসেম্বর : জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা জেডএসআই-এর বিজ্ঞানীরা মেঘালয়ের জীববৈচিত্র্যময় অঞ্চলে দু’টি নতুন উল্লম্ফন মাকড়সার প্রজাতি, আসেমোনিয়া ডেনটিস এবং কোলিটাস নংওয়ারের আবিষ্কার করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার উত্তর পূর্ব ভারতের ইন্দো-মায়ানমার মহাজীববৈচিত্র্য অধ্যুষিত অঞ্চলের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নতুন প্রজাতিগুলি সালটিসিডি বা লাফানো মাকড়সার পরিবারভুক্ত। তাদের অসাধারণ দৃষ্টিশক্তি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং জাল না বুনে শিকার অনুসরণ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে খাদ্য আহরণের ক্ষমতা তাদের অন্যান্য মাকড়শার থেকে আলাদা করে।
মূল আবিষ্কার ও বৈশিষ্ট্য
আসেমোনিয়া ডেনটিস
এটি দেশে আসেমোনিয়া পরিবারের মাত্র তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে চিহ্নিত হলো। আকারে ছোট এই প্রজাতির ভারতবর্ষে অত্যন্ত অল্প অনুসন্ধান করা হয়েছে।
প্রজাতিটির নামকরণ হয়েছে ডেনটিস শব্দ অনুসারে, কারণ পুরুষ মাকড়সার ‘পালপাল ফিমার’ অংশে দাঁতের মতন বিশেষ প্রত্যঙ্গ লক্ষ্য করা গেছে। এটি এই বিশেষ প্রজাতির পরিচয়ের প্রধান চিহ্ন।
পুরুষ মাকড়সার দেহ সবুজ- বাদামি এবং পেটের অংশে উল্টো ভি আকৃতির হালকা হলুদ চিহ্ন থাকে। আবার অন্যদিকে স্ত্রী মাকড়সা কালচে নকশা ছাড়া দুধের সরের মতো সাদা রঙের হয়।
কোলিটাস নংওয়ার
এটি কোলিটাস পরিবারের মাত্র দ্বিতীয় প্রাচ্যের প্রজাতি হিসেবে ভারতবর্ষে সনাক্ত হল।
প্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে এটির আবিষ্কার স্থল মেঘালয়ের নংওয়ার গ্রামের নামে।
পুরুষ ও স্ত্রী দু’টিরই গায়ে ডিম্বাকৃতি লালচে বাদামি ‘ক্যারাপেস’ এবং হালকা বাদামি পেট থাকে। পেটের সামনের দিকে সাদা ডোড়াকাটা দাগ এবং পিছনের দিকে পাঁচটি ‘সেভ্রন’ আকৃতির সাদা দাগ থাকে।
ভারতের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য পুনর্ব্যক্ত
এই গবেষণার নেতৃত্বে থাকা ডঃ সৌভিক সেন এবং ডক্টর সুধীন পি পি জানান, এই আবিষ্কার উত্তর পূর্ব ভারতের অসাধারণ জীববৈচিত্র্যের আভাসমাত্র। ডক্টর সেন বলেন, এখানে খুব কম সুশৃঙ্খল জরিপ হয়েছে, এবং আরও বহু প্রজাতি নিশ্চয়ই আবিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছে।
জেডএসআই এর পরিচালক ডঃ ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহত্তর তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এই ধরনের সন্ধান, বিশেষত, উত্তর পূর্ব অঞ্চলে, ভারতের বিশাল ও অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ নথিভুক্ত করতে আরও বিস্তৃত জরিপের প্রয়োজনীয়তার উজ্জ্বল প্রমাণ। মেঘালয়ের পবিত্র অরণ্যভূমি এবং পর্বতমালা আমাদের অনন্য পরিবেশ সম্পদ।
আসেমোনিয়া ডেনটিস এবং কোলিটাস নংওয়ার-এর সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে জুটাক্সা নামক আন্তর্জাতিক সাময়িক পত্রিকার নতুন সংখ্যায়।
