শুভাবরি ওয়েবডেস্ক, ২৭ ডিসেম্বর, কলকাতা : দুটি প্রতিবেশী (ভারত ও বাংলাদেশ ) দেশ যখন ধর্ম এবং রাজনীতি নিয়ে সম্পর্কের তিক্ততায় পৌঁছেছে, যখন দুই দেশের দূতাবাস গুলো ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমগুলোতে দুই দেশের সুনাগরিকেরা পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে, এমনই একটি উত্তেজনা পূর্ণ মুহূর্তে একটা মন ভালো লাগা কাজ করলো কলকাতার এক সেচ্ছাসেবী সংগঠন।
পথপশু, অঞ্চলে বয়স্ক মানুষ এবং প্রান্তিক স্তরের বালক বালিকাদের শিক্ষার জন্য কাজ করতে থাকা এই সংগঠনটি হল ‘বিজয়গড় পরশ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’। প্রয়োজন মতো বিভিন্ন আর্ত মানুষকে এই সংগঠনের সদস্য-সদস্যরা হসপিটাল বা নার্সিংহোমে গিয়ে রক্ত দিয়ে থাকেন।
খবর আসে, একটি ছোট্ট মেয়ে যার নাম জান্নাতুল ফিরদৌস, বাড়ি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায়, মেয়েটি ৬ বছর বয়েসেই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। নিউটাউনের একটি বেসরকারি হসপিটালে চিকিৎসাধীন। তার রক্তের প্রয়োজন আছে এই খবরটি জানতে পারে যাদবপুরের এই সংগঠনটি। এক মুহূর্ত দেরি না করে সংগঠনের সদস্য অরিন্দম বোস পৌঁছে যান সেই বেসরকারি নার্সিংহোমে।
রক্ত দেবার পরে একটা অসাধারণ তৃপ্তি নিয়ে তিনি বললেন, প্রচুর রক্ত লাগছে,হয়তো আরোও লাগবে আগামি ছয় মাসে। আমি আজ ওর জন্য রক্তদান করে এলাম। এটা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার এক শ্রমিক যাকে মৌলবাদীরা হত্যা করে, সেই দীপু চন্দ্র দাসের প্রতি এবং মানবতার প্রতি আমার শ্রদ্ধার্ঘ। পাশাপাশি, সারা বিশ্বের ধর্মীয় মৌলবাদের প্রতি আমার থাপ্পড়।
স্বামীজীর কথায়, অরিন্দম বোস ছাপ রেখে গেলেন এই সমাজের বুকে। যেখানে ধর্ম বা দেশের থেকে ঊর্ধ্বে মানবিকতা স্থান পেয়েছে। মেয়েটির আরো রক্ত প্রয়োজন। কারণ আগামি ছয় মাস টানা ট্রিটমেন্ট এর পর হয়তো কোনো পসিটিভ সারা পাওয়া যাবে। আমরা সবাই প্রার্থনা করব, ওই শিশুটি যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে।
