ওয়েব ডেস্ক; ৪ ফেব্রুয়ারি : সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিক মদতের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে ভারতের অগ্রণী ভূমিকার অঙ্গ হিসেবে রাজস্ব দপ্তরের উদ্যোগে বিদেশ মন্ত্রক এবং জাতীয় সুরক্ষা পরিষদ সচিবালয়ের সহযোগিতায় এই প্রথম ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি, ক্রাউড ফান্ডিং ও অ-লাভজনক সংস্থার মাধ্যমে সন্ত্রাসে অর্থ যোগানের মোকাবিলা’ শীর্ষক একটি সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। নতুন দিল্লিতে ২১-২২ এপ্রিল, ২০২৫-এ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মধ্য-এশীয় প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধিরা যোগ দেন।
এই প্রয়াসের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসে আর্থিক মদতের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে ভারতের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে, ডিজিটাল মাধ্যম এবং সামাজিক কাঠামোর অপব্যবহারের যে প্রবণতা সাম্প্রতিককালে দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে এই সম্মেলনে বিশদে আলোচনা হয়। রাজস্ব দপ্তরের আর্থিক গোয়েন্দা শাখার এফএটিএফ সেলের বিশেষজ্ঞ, জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ-এর প্রতিনিধি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেন। এছাড়া, ইএজি-র একজন বিশেষজ্ঞও ছিলেন। সম্মেলনে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় তা হল :
ভার্চ্যুয়াল সম্পদের অপব্যবহার শনাক্ত করা এবং তার তদন্ত;
উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলির জন্য ক্রাউড ফান্ডিং-এর ধরন;
অ-লাভজনক সংস্থাগুলির ওপর নজরদারি চালাতে নিয়ন্ত্রণমূলক ও আর্থিক গোয়েন্দা কাঠামো।
এছাড়া, অন্য যে বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছে তা হল –
সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত তদন্তে অর্থ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ;
ভার্চ্যুয়াল সম্পদ পরিষেবা প্রদানকারীদের অপব্যবহারের ফলে উদ্ভূত ঝুঁকি;
ক্রাউড ফান্ডিং প্ল্যাটফর্মগুলির অপব্যবহার;
অ-লাভজনক সংস্থাগুলির ঝুঁকি নিরূপণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।
ভারতের আর্থিক গোয়েন্দা দপ্তর, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবং জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ-এর বিভিন্ন কেস স্টাডি করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের এই সংক্রান্ত স্টাডি মেটিরিয়ালও দেওয়া হয়।
এই ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা বিশ্বের অন্য যেসব অঞ্চলকে করতে হচ্ছে তাদের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রস্তাব ভারত রেখেছে। রাজস্ব দপ্তর ও বিদেশ মন্ত্রকের সহযোগিতায় বিমস্টেক দেশগুলির জন্য এই ধরনের আরেকটি সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
লোকসভায় এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই এই তথ্য জানিয়েছেন।
