কলকাতা, ১৩ মার্চ : শ্রীরামপুর স্টেশনকে এই অঞ্চলের একটি আইকনিক সুবিধাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মাননীয় রেলমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পূরণের অভিমুখে আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে, রেল মন্ত্রক পূর্ব রেলের শ্রীরামপুর স্টেশনকে ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন প্রদান করেছে।

মাননীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব গত ৭ মার্চ তারিখে তাঁর সাম্প্রতিক শ্রীরামপুর অঞ্চল সফরের সময় জানিয়েছিলেন যে, শ্রীরামপুর রেল স্টেশনের পুনর্উন্নয়ন শহরের প্রাচীন সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক পরিচয়কে মাথায় রেখেই করা হবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, শ্রীরামপুর রেল স্টেশনের নির্মাণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে শ্রীরামপুরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রতিফলিত হয় এবং স্টেশনের অবয়ব এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক পরিচয়ের প্রতিফলন ঘটায়। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর এই ঘোষণার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই রেল মন্ত্রক শ্রীরামপুরকে অমৃত ভারত স্টেশনে রূপান্তরিত করার অনুমোদন দিয়েছে। এটি পশ্চিমবঙ্গকে উন্নয়নমূলক প্রকল্প প্রদানের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের তৎপরতা এবং উৎসাহী প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।

শ্রীরামপুর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার একটি ঐতিহাসিক শহর, যা হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। শ্রীরামপুরের একটি সমৃদ্ধ ইন্দো-ড্যানিশ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে, কারণ এক সময় এই এলাকাটি ড্যানিশ কলোনির বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। শ্রীরামপুর মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের ভারতের অন্যতম প্রাচীন রথযাত্রা উৎসব আয়োজনের জন্যও বিখ্যাত এবং এই রথযাত্রায় কেবল শ্রীরামপুর এলাকার মানুষই নন, পশ্চিমবঙ্গের দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এই অনুষ্ঠান দেখার জন্য আসেন। ভারতের অন্যতম প্রাচীন ছাপাখানাও (প্রেস) শ্রীরামপুরে স্থাপিত হয়েছিল, যা এই শহর একদা বাংলায় যে শিক্ষা ও পাণ্ডিত্যের উৎকর্ষ এনেছিল তারই নিদর্শন।

শ্রীরামপুর অমৃত ভারত স্টেশনের ঘোষণার মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ:

  • সাংস্কৃতিক সংহতি: স্টেশনের স্থাপত্যে স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটবে।
  • ঐতিহাসিক গুরুত্ব: জগন্নাথ মন্দিরের মতো প্রাচীন নিদর্শনগুলোর সাথে শ্রীরামপুরের সংযোগের ওপর গুরুত্বারোপ।
  • শিকড়ের সাথে আধুনিকীকরণ: আধুনিক রেল পরিকাঠামোর সাথে ঐতিহ্যবাহী নান্দনিকতার ভারসাম্য রক্ষা।

অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে রেল স্টেশনগুলির পুনরুন্নয়ন এই অঞ্চলের রেল পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি, প্রবেশযোগ্যতার উন্নতি এবং টেকসই নকশার ওপর গুরুত্ব দিয়ে, স্টেশনগুলির এই মানোন্নয়ন কেবল ভ্রমণের অভিজ্ঞতাই উন্নত করবে না, বরং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে।

শ্রীরামপুর স্টেশন পুনরুন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত অমৃত ভারত স্টেশনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • শহরের উভয় প্রান্তের সংযোগ স্থাপন
  • স্টেশনে প্রবেশের উন্নত পথ এবং সার্কুলেটিং এরিয়া
  • স্থানীয় শিল্প ও সংস্কৃতি দ্বারা অনুপ্রাণিত নকশা
  • নিয়ন্ত্রিত যান চলাচল ব্যবস্থা
  • টেকসই উন্নয়ন
  • উজ্জ্বল আলোকসজ্জা এবং নান্দনিকভাবে দৃষ্টিনন্দন পোর্চ
  • উন্নত প্রতীক্ষালয়
  • লিফট / এসকেলেটর স্থাপন
  • প্ল্যাটফর্মের উপরিভাগ এবং প্ল্যাটফর্ম শেডের মানোন্নয়ন
  • স্টেশনে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) প্রদান
  • উন্নত যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা
  • উন্নত সার্কুলেটিং এরিয়া

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকশিত বাংলা বিকশিত ভারত’ স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে, মাননীয় কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের নেতৃত্বে ভারতীয় রেল পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প ও যুগান্তকারী উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করছে। শ্রীরামপুরকে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় আনার এই ঘোষণা এমনই একটি মাইলফলক পদক্ষেপ, যা শ্রীরামপুর স্টেশনকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত করবে।