ওয়েব ডেস্ক; ২৭ এপ্রিল : জলবিদ্যুৎ একটি নির্ভরযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটাতে এবং গ্রিড স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ (Small Hydro Power – SHP) উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে ১ থেকে ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে সহায়তা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে, পাহাড়ি এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী হবে। ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষের জন্য এই প্রকল্পে মোট ২,৫৮৪.৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

মূল তথ্যাবলী (Key Takeaways)

উদ্বোধন: ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়।

লক্ষ্য: সারা দেশে প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা।

আর্থিক বরাদ্দ: মোট ২,৫৮৪.৬০ কোটি টাকা।

কর্মসংস্থান: নির্মাণ পর্যায়ে প্রায় ৫১ লক্ষ কর্মদিবসের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা।

বর্তমান পরিস্থিতি: ভারতে বর্তমানে প্রায় ৫,১৭১ মেগাওয়াট ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যদিও মোট সম্ভাবনা ২১,১৩৩.৬১ মেগাওয়াট।

ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য ও আর্থিক বিন্যাস

এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্গম এবং পাহাড়ি অঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি, স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা হবে।

আর্থিক সহায়তার হার:

উত্তর-পূর্ব রাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলা: প্রতি মেগাওয়াটে ৩.৬ কোটি টাকা অথবা মোট প্রকল্পের খরচের ৩০% (যেটি কম), সর্বোচ্চ সীমা ৩০ কোটি টাকা।

অন্যান্য অঞ্চল: প্রতি মেগাওয়াটে ২.৪ কোটি টাকা অথবা মোট প্রকল্পের খরচের ২০% (যেটি কম), সর্বোচ্চ সীমা ২০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের গুরুত্ব (Significance)

১. বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ সরবরাহ: দুর্গম পাহাড়ি ও সীমান্ত এলাকায় যেখানে বড় গ্রিড পৌঁছানো কঠিন, সেখানে এই ক্ষুদ্র প্রকল্পগুলি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

২. পরিবেশবান্ধব: এই প্রকল্পগুলোতে বড় বাঁধ তৈরির প্রয়োজন হয় না (Run-of-the-river), ফলে, বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হয় না বললেই চলে।

৩. আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র শিল্প ও স্বনির্ভরতার সুযোগ তৈরি হয়।

৪. গ্রিড স্থিতিশীলতা: সৌর বা বায়ুর মতো অনিশ্চিত শক্তির বিপরীতে জলবিদ্যুৎ সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ (Round-the-clock) প্রদান করতে সক্ষম।

ভারতে ক্ষুদ্র জলবিদ্যুতের সম্ভাবনা (Potential in India)

ভারতে মোট ৭,১৩৩টি চিহ্নিত স্থানে ২১,১৩৩.৬১ মেগাওয়াট ক্ষুদ্র জলবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আঞ্চলিক সম্ভাবনার চিত্র:

উত্তর ভারত: মোট ৭,৯৭৮ মেগাওয়াট (হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীর প্রধান)।

দক্ষিণ ভারত:মোট ৫,৪৯০ মেগাওয়াট (কর্ণাটক এককভাবে ৩,৭২৬ মেগাওয়াট উৎপাদন করতে সক্ষম)।

উত্তর-পূর্ব ভারত:মোট ৩,২৬২ মেগাওয়াট (অরুণাচল প্রদেশ এই অঞ্চলের শীর্ষ শক্তি কেন্দ্র)।

পশ্চিম ভারত: মোট ২,৯৬৩ মেগাওয়াট (মূলত মহারাষ্ট্র ও গুজরাট)।

পূর্ব ভারত:মোট ১,৪৪০ মেগাওয়াট (বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ)।

আপনি কি জানেন?

রান-অফ-দ্য-রিভার প্রকল্প: বড় বাঁধ না বানিয়ে নদীর স্বাভাবিক স্রোতকে ঘুরিয়ে টারবাইন চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এতে জলের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকে।

ক্ষুদ্র বনাম বৃহৎ জলবিদ্যুৎ: প্রসঙ্গত, ২৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত ক্ষমতা সম্পন্ন প্রকল্পগুলো ‘ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ’ হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের (MNRE) অধীনে রয়েছে। এর বেশি ক্ষমতার প্রকল্পগুলি বিদ্যুৎ মন্ত্রকের আওতাভুক্ত।

উপসংহার (Conclusion)

ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প (২০২৬-৩১) ভারতের পরিবেশবান্ধব শক্তি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনই করবে না, বরং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের অংশ হিসাবে দেশীয় যন্ত্রপাতি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে সহায়তা করবে।