ওয়েব ডেস্ক; ১৭ মে: কোয়ান্টামের একটি চমকপ্রদ চরিত্র আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেছে বিপ্রতীপ অবস্থার প্রস্তুত দুটি পার্টিকল, দুটি সমধর্মী পার্টিকলের তুলনায় অনেক বেশি তথ্য দিতে পারে।
এই আবিস্কারের ফলে অজানা কোয়ান্টাম কার্যাবলির চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যের উন্নতি করতে পারে এবং কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি প্রোটোকলের সুবিধা করে দিতে পারে।
কোয়ান্টাম ফিজিক্সে সবকিছু একবারে জানা যায় না। এই মৌলিক সীমাবদ্ধতা পরিচিত বোহর-এর কমপ্লিমেন্টারিটি প্রিন্সিপল হিসেবে। এই নীতি অনুযায়ী কোয়ান্টাম সিস্টেমের নির্দিষ্ট কয়েকটি ধর্ম নিঁখুতভাবে একইসঙ্গে নির্ধারণ করা যায় না। সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণগুলির মধ্যে আছে ডাবল-স্লিট পরীক্ষায় পাথ ইনফরমেশন এবং ইন্টারফেয়ারেন্স ভিজিবিলিটির মধ্যে ট্রেড-অফ। পাশাপাশি পজিশন এবং মোমেন্টামের মতো নন কমিউটিং অবজারভেবল্সের যৌথ মাপের অসম্ভবতা অথবা বিভিন্ন রেখায় স্পিন কম্পোনেন্টস।
কিন্তু আমরা যদি এই সীমাবদ্ধতাকে পরিবর্তন করতে কোনও পদ্ধতি তৈরি করতে পারি? ফিজ. রেভ. লেট.-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণায় পাওয়া গেছে একটি আশ্চর্যজনক ফলাফল : কোনও কোনও সময় বিপরীত ভালো কাজ করে একই ধরনের দুটি পার্টিকলের থেকে।
গবেষণায় পাওয়া গেছে একটি কোয়ান্টাম পার্টিকলের বিভিন্ন ধর্ম যৌথভাবে কত ভালো করে মাপা যায়- বিশেষ করে স্পিন অফ আ কিউবিট- যখন আমাদের এই ধরনের এক জোড়া পার্টিকল দেওয়া হয়। এই জোড়া তৈরি করা যায় দুটি নির্দিষ্ট পথে : হয় দুটি একই দিকে ঘোরে (সমান্তরাল), অথবা একটি অন্যটির থেকে আলাদাভাবে ঘোরে (অসমান্তরাল)।
স্বাভাবিকভাবে মনে হতে পারে একই ধরনের জিনিস বেশি কার্যকর হবে। কারণ একই অবস্থার দুটি প্রতিলিপি হতে পারে বেশি তথ্য দিতে পারে। কিন্তু কোয়ান্টাম মেকানিক্স বলছে অন্য কথা।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের স্বশাসিত সংস্থা এসএন বোস ন্যাশনাল সেন্টার ফর বেসিক সায়েন্সেস, বলাগড় বিজয়কৃষ্ণ মহাবিদ্যালয় এবং কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্সটিটিউট-এর একদল গবেষক দেখিয়েছেন যে অসমান্তরাল ঘূর্ণন চমকপ্রদ সুবিধা দিচ্ছে। সমান্তরাল ঘূর্ণনে যা অসম্ভব বলে মনে করা হয় মৌলিক তত্ত্ব অনুযায়ী, সেখানে তিনটি মিউচুয়ালি ইনকমপ্যাটিবল স্পিন উপাদানের সঠিক একইরকম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়।
এই ফলাফল কোয়ান্টাম থিয়োরির কেন্দ্রকে ছুঁয়ে গেছে। ধ্রুপদী পদার্থ বিদ্যায় একাধিক ধর্মকে মাপা শুধুমাত্র সীমিত ছিল বাস্তব বাধার দ্বারা। উল্টোদিকে কোয়ান্টাম সিস্টেম ইনট্রিনজিক সীমাবদ্ধতা বলবৎ করে। এটাকে পরিচিত করেছিলেন হেইসেনবার্গ তাঁর আনসার্টেন্টি প্রিন্সিপল এবং বোহর তাঁর কমপ্লিমেন্টারিটি প্রিন্সিপলের মাধ্যমে।
ইয়াকির আহারোনভ এবং তাঁর সঙ্গীদের প্রবর্তিত মিন কিংস প্রবলেম হিসেবে পরিচিত বিখ্যাত কোয়ান্টাম ধাঁধার সঙ্গে সম্পর্কিত এই কাজ। গভীর স্তরে কোয়ান্টাম ফিজিক্সে রেকারিং থিম-কে তুলে ধরে। অর্থাৎ মিল থাকা মানেই অধিক শক্তি এমন নয়।
