ওয়েব ডেস্ক; ১৮ মে: দেশের একাধিক জায়গায় ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং তাপপ্রবাহ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হেল্থ সার্ভিসেস (ডিজিএইচএস)-এর আধীনে আয়ুষ ভার্টিকাল আয়ুষ মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলতি গ্রীষ্মের মরশুমে অত্যন্ত গরম এবং তাপপ্রবাহ নিয়ে জনসাধারণের জন্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিস্তারিত পরামর্শ জারি করেছে।
সাধারণ মানুষ, অসুস্থ, কর্মচারী, শ্রমিক এবং জনসমাবেশ ও খেলাধুলোয় অংশগ্রহণকারীদের গরম সংক্রান্ত অসুস্থতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছে। জোর দেওয়া হয়েছে যথেষ্ট পরিমাণ জল খাওয়ার উপর, দুপুরে সরাসরি রোদে না থাকার উপর, হালকা সুতির জামাকাপড় ব্যবহারে এবং মরশুমি ফল ও ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় খাওয়ার উপর।
পরামর্শে আরও বলা হয়েছে, যে সদ্যোজাত, শিশু, গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক ব্যক্তি, বাইরে কাজ করেন এমন শ্রমিক এবং দীর্ঘদিন ধরে হৃদযন্ত্রে বা উচ্চ রক্তচাপে ভোগা ব্যক্তিরা বিশেষ করে তাপপ্রবাহের শিকার হতে পারে তাই তাদের জন্য বিশেষ যত্ন ও নজরদারির প্রয়োজন।
বিশেষ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে কাজের জায়গায়, জনসমাবেশে এবং ঘরের বাইরে কাজকর্মে। যেমন আচ্ছাদন দেওয়া বিশ্রামের জায়গা রাখতে হবে, মাঝে মাঝেই জল খাওয়ার বিরতি দিতে হবে, শ্রমিকরা যাতে আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন তার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং প্রচণ্ড তাপে যে উপসর্গগুলি দেখা যায় সে সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
নাগরিকদের তাপজনিত অসুস্থতার লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যেমন ঝিমুনি, মাধা ব্যথা, বমি ভাব, মানসিকতার পরিবর্তন, শরীরে তাপ বৃদ্ধি, শরীরে জলাভাব, খিঁচুনি ও অজ্ঞান হওয়া। হিটস্ট্রোক হলে আপৎকালীন ভিত্তিতে চিকিৎসা করতে হবে। এই ধরনের ঘটনায় এমার্জেন্সি হেল্পলাইন ১০৮/১০২ নম্বরে দ্রুত ফোন করতে বলা হয়েছে।
ডিজিএইচএস-এর অধীনে আয়ুষ ভার্টিকালের পক্ষ থেকে তাপপ্রবাহের মোকাবিলায় আয়ুর্বেদ, সিদ্ধা, যোগা, ইউনানি এবং হোমিওপ্যাথির মতো চিরাচরিত সুস্থতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার আশ্রয় নিতেও বলা হয়েছে। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী ঠান্ডা খাবারের অভ্যাস করতে বলা হয়। খেতে হবে ডাবের জল, বাটার মিল্ক, লেবুর রস দেওয়া জল যাতে অত্যন্ত গরমেও শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। সিদ্ধা এবং যোগাতেও শরীর ঠান্ডা রাখতে শীতলী প্রাণায়াম এবং সাধারণ যোগাসনের মতো শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করে শরীরকে আরাম দিতে বলা হয়। ইউনানি ব্যবস্থাতেও চিরাচরিত ঠান্ডা পানীয় এবং ভেষজ উপায় অবলম্বন করতে বলা হয়। রোদের হাত থেকে বাঁচতে এবং শরীরে জলাভাব থেকে রক্ষা পেতে।
একইসঙ্গে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে গরমের সময়ে প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় শসা, তরমুজ, লেবু, খরমুজ, ফুটি এবং টমাটো রাখতে।
নাগরিকদের এও বলা বলা হয়েছে যেন তারা নিয়মিত আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে লক্ষ্য রাখেন এবং তাপপ্রবাহের জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করেন।
