ওয়েব ডেস্ক; ১ জুন : ভারত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৭৩,৮৯০.৪৬ কোটি টাকা (৮.৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের ১৯,৭২,০১৮ মেট্রিক টন (MT) সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানি করেছে, যেটি পরিমাণ এবং মূল্য উভয় দিক থেকেই সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। মেরিন প্রোডাক্টস এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (MPEDA)-এর চেয়ারম্যান পি জওহর (IAS) এই তথ্য জানিয়েছেন আজ।

এই সময়ে ভারতীয় সামুদ্রিক পণ্যের প্রধান আমদানিকারক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন শীর্ষস্থান বজায় রেখেছে। হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হিসাবে অব্যাহত ছিল, যা মোট রপ্তানিকৃত পরিমাণের ৪০.১৯ শতাংশ এবং মার্কিন ডলার মূল্যে মোট রপ্তানি আয়ের ৬৬.৫২ শতাংশের অংশীদার। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মোট ৭,৯২,৬৪৭ মেট্রিক টন হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করা হয়েছে, যার মূল্য ছিল ₹৪৯,০৩৭.৯৩ কোটি (৫,৬২৪.৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এই সময়ে চিংড়ি রপ্তানি টাকার মূল্যে ১৩.১৬ শতাংশ এবং মার্কিন ডলার মূল্যে ৮.৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

হিমায়িত চিংড়ির সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র ২,৫৬,১২৮ মেট্রিক টন আমদানি করেছে। এর পরে রয়েছে চীন, যা ১,৬৯,৫০৫ মেট্রিক টন আমদানি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমদানি করেছে ১,৩৫,৫৯৯ মেট্রিক টন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ৮৩,৮১০ মেট্রিক টন, জাপান ৪০,৭৭৬ মেট্রিক টন, মধ্যপ্রাচ্য ৩০,৪৭৮ মেট্রিক টন এবং অন্যান্য দেশ ৭৬,৩৫১ মেট্রিক টন আমদানি করেছে। এল. ভ্যানামেই এবং ব্ল্যাক টাইগার চিংড়ির রপ্তানি পরিমাণ ও মূল্যের দিক থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।

হিমায়িত মাছ ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকৃত পণ্য, যা থেকে ₹৫,৬৫৮.৩৭ কোটি (৬৪৩.৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় হয়েছে। শুকনো সামুদ্রিক পণ্য তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি দ্রব্য হিসাবে উঠে এসেছে, যা থেকে ₹৫,০৭৯.০৯ কোটি (৫৭৭.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় হয়েছে। এই গোষ্ঠীটি টাকার মূল্যে ৭৮.০৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

হিমায়িত স্কুইডের রপ্তানি ১,০২,০৬০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে, যার মূল্য ₹৪,৪৯৩.৮০ কোটি (৫১৩.৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। হিমায়িত কাটলফিশের রপ্তানি ছিল ৬৭,১৫৭ মেট্রিক টন, যার মূল্য ৩৩১.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই পণ্যের রপ্তানি পরিমাণের দিক থেকে ১৩.৩২ শতাংশ এবং মার্কিন ডলার মূল্যে ১৬.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
শীতলীকৃত (চিলড) সামুদ্রিক পণ্যের রপ্তানি থেকে ₹৬২২.৩১ কোটি (৭১.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় হয়েছে। অন্যদিকে, জীবিত সামুদ্রিক পণ্যের রপ্তানি থেকে ৬২.৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা মার্কিন ডলার মূল্যে ১১.৪৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
বিদেশি বাজারগুলির মধ্যে মূল্যমানের বিচারে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় সামুদ্রিক পণ্যের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক হিসাবে অবস্থান বজায় রেখেছে। দেশটি ২,৭৯,১৯৩ মেট্রিক টন সামুদ্রিক পণ্য আমদানি করেছে, যার মূল্য ₹২০,২৬৩.২৭ কোটি (২,৩২৮.৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি টাকার মূল্যে ১০.৮২ শতাংশ, মার্কিন ডলার মূল্যে ১৪.২২ শতাংশ এবং পরিমাণের দিক থেকে ১৯.৫১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মূল্যমানের বিচারে হিমায়িত চিংড়ি যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের মোট সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানির ৯৩.৫৫ শতাংশের অংশীদার ছিল।

পরিমাণের বিচারে চীন ভারতের সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য হিসাবে উঠে এসেছে। দেশটি ৪,৯০,৩৬৯ মেট্রিক টন সামুদ্রিক পণ্য আমদানি করেছে, যার মূল্য ১,৬১১.৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূল্যমানের বিচারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্য হিসাবে রয়েছে, যেখানে ২,৯৭,৫১৮ মেট্রিক টন সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যার মূল্য ১,৫৯২.০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, যেখানে ৪,৫১,৭৫৬ মেট্রিক টন সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যার মূল্য ১,৩৪৮.৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মূল্যমানের বিচারে জাপান পঞ্চম বৃহত্তম আমদানিকারক হিসাবে অবস্থান বজায় রেখেছে। দেশটি ১,০৫,২২৮ মেট্রিক টন সামুদ্রিক পণ্য আমদানি করেছে, যার মূল্য ৪৫২.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মধ্যপ্রাচ্য মূল্যমানের বিচারে ষষ্ঠ বৃহত্তম গন্তব্য ছিল, যেখানে ৭৬,৭৪৩ মেট্রিক টন সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যার মূল্য ২৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সামুদ্রিক পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে শীর্ষ তিনটি বন্দর ছিল ভাইজাগ, জেএনপিটি এবং কোচি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *