ওয়েব ডেস্ক; ২১ জুন : দিঘার শ্রীশ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টারে রবিবার সকালে অত্যন্ত উৎসাহ, উদ্দীপনা ও ভক্তিভাবের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬ পালিত হয়। এই অনুষ্ঠানে ইসকনের সন্ন্যাসী, ভক্ত, মন্দিরকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবীরা একত্রিত হয়ে ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে সম্মিলিতভাবে উদযাপন করেন।
শ্রীশ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টারের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (PMU)-এর উদ্যোগে এবং দিঘার শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দিরের ভক্ত-সেবকদের সহযোগিতায় সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন যোগাসন, প্রাণায়াম ও ধ্যানচর্চায় অংশ নেন, যার উদ্দেশ্য ছিল শারীরিক সুস্থতা, মানসিক স্বচ্ছতা, আবেগগত ভারসাম্য এবং আধ্যাত্মিক কল্যাণের বিকাশ।
এই আয়োজন সকলকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে বৈদিক ঐতিহ্যে বর্ণিত যোগ কেবলমাত্র শারীরিক ব্যায়ামের একটি পদ্ধতি নয়। এটি আত্ম-উন্নয়নের এক পবিত্র বিজ্ঞান, যা শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপন করে এবং মানুষকে উচ্চতর চেতনা ও অন্তর্নিহিত পরিতৃপ্তির পথে পরিচালিত করে। একই সঙ্গে এই অনুষ্ঠান বিশ্বকল্যাণে ভারতের অসামান্য অবদানকেও তুলে ধরে, কারণ যোগের প্রাচীন জ্ঞান আজও বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
এই শুভ উপলক্ষে দিঘার শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত এবং শ্রীশ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টারের ট্রাস্টি রাধারমণ দাস তাঁর বার্তায় বলেন—
“আন্তর্জাতিক যোগ দিবস আজ স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি এবং উচ্চতর চেতনার এক শক্তিশালী বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। যোগকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করা এবং মানবসমাজকে ভারতের সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহারকে গ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজির দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। তাঁর উদ্যোগের ফলে বৈদিক ঐতিহ্যের চিরন্তন জ্ঞান বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং বিশ্বজুড়ে সুস্থতা, শান্তি ও আধ্যাত্মিক চেতনার প্রসার ঘটিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীজিকেও আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভারতের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সমাজের শারীরিক ও নৈতিক কল্যাণে সহায়ক বিভিন্ন উদ্যোগকে উৎসাহিত করার জন্য তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। এই ধরনের প্রচেষ্টা আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সুস্থ, সুষম এবং মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা শিক্ষা দেয় যে যোগের পরিপূর্ণতা নিহিত রয়েছে পরমেশ্বরের সঙ্গে আমাদের চিরন্তন সম্পর্ককে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার মধ্যে। তাই যোগ যেমন শরীরকে সুস্থ ও মনকে শান্ত করে, তেমনি তার সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য হলো আত্মার জাগরণ। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনের এই দিনে আমরা যোগকে কেবল শরীরচর্চার মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং অন্তঃশান্তি, আত্ম-উপলব্ধি, সহমর্মিতা, চরিত্রগঠন এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের পথে এক মহৎ সাধনা হিসেবে গ্রহণ করি। যোগ যখন তার প্রকৃত চেতনায় অনুশীলিত হয়, তখন তা মানবজাতিকে তার ঐশ্বরিক উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত করার এক সেতুবন্ধনে পরিণত হয়।”
