ওয়েব ডেস্ক; ৩০ জুন : পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক আগামী ১ জুলাই থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে মোটর স্পিরিট এবং হাই স্পিড ডিজেলের বিক্রি ও বিতরণ বিষয়ক অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করেছে।

পশ্চিম এশিয়া সংকটের প্রেক্ষিতে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল, সেই সময় সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের তীব্র বৃদ্ধির প্রভাব থেকে খুচরো গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো মূল্য স্থিতিশীল রেখেছিল। এর ফলে খুচরো গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত জ্বালানির দাম এবং বিশাল পরিমাণে জ্বালানি কেনা গ্রাহক বা বাল্ক কনজিউমারদের জন্য প্রযোজ্য দামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়। এর ফলে, কিছু শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহক খুচরো বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জ্বালানি সংগ্রহ শুরু করেন, যার ফলে জ্বালানি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া, মজুতদারি এবং কালোবাজারির মতো ঘটনা দেখা দেয়। এতে জ্বালানির সুষম বণ্টন প্রভাবিত হচ্ছিল।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ২০২৬ সালের ১২ জুন চালু করা অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থায় খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রে প্রতি গ্রাহক/যানের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০০ লিটার হাই স্পিড ডিজেল দেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি শিল্প, প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রের পরিবর্তে নির্ধারিত কনজিউমার পাম্পের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। এই পদক্ষেপগুলির উদ্দেশ্য ছিল কালোবাজারি, মজুতদারি এবং ডিজেল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া রোধ করা এবং একই সঙ্গে খুচরো গ্রাহকদের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।

দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর সরকার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, জনস্বার্থে এই অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাগুলির আর প্রয়োজন নেই। সেই অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ জুনের আদেশটি ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এই অস্থায়ী ব্যবস্থাগুলি সারা দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করতে সহায়তা করেছে। এগুলির প্রত্যাহার সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠারই প্রতিফলন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *