ওয়েব ডেস্ক; ১৭ জুলাই : ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ট্রেন চালু হতে চলেছে। ভারতীয় রেলের এই ট্রেন হাইড্রোজেন থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংগ্রহ করবে যা সবথেকে পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানি হিসেবে পরিচিত। এতে কার্বন নির্গমন প্রায় শূণ্যের কাছাকাছি পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতীয় রেলের বিবর্তনে এটি নিঃসন্দেহে এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে। কয়লা ও বাষ্প থেকে ক্রমে আরও পরিবেশ-বান্ধব এবং অধিক স্থিতিস্থাপক জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেন এক নতুন গতি সঞ্চার করবে।

বিগত ১২ বছর ধরে রেলের দ্রুত বৈদ্যুতিকরণ আমদানিকৃত ডিজেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনছে। বর্তমানে ব্রডগেজ রুটের প্রায় ৯৯ শতাংশের বৈদ্যুতিকরণ হয়ে গেছে। ভারতীয় রেল এখন নতুন পথে অগ্রসর হচ্ছে। প্রথাগত ইলেক্ট্রিক ট্রেনের থেকে ভিন্ন এই হাইড্রোজেন ট্রেন নিজেই নিজের প্রয়োজনীয় জ্বালানিশক্তি তৈরি করে নিতে পারবে। ট্রেনে ফুয়েল সেল ট্রেনসেট হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে এবং এর থেকে কেবলমাত্র জলীয় বাষ্পই তৈরি হবে।

প্রারম্ভিকভাবে ঝিন্দ-সোনেপাত বিভাগে ঘন্টায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে এই ট্রেনের যাত্রা শুরু হবে। পরে গতি ১১০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় বাড়ানোর ব্যবস্থাও থাকছে। ট্রেনটি কেবল নিরাপদই নয়, এই ৮৯ কিলোমিটার রুটে তা দ্রুতগামীও বটে। বিশ্বের নানা জায়গায় যেসব হাইড্রোজেন ট্রেন বর্তমানে চলে, সেগুলিতে ২-৩টি কোচ থাকে ও স্বল্প দূরত্বে সেগুলি যাতায়াত করে। কিন্তু ভারতীয় রেলের এই ট্রেন ১০টি কোচ সম্বলিত এবং তাতে যাত্রী বহন ক্ষমতা হবে ২,৬০০।

প্রশ্ন হল হাইড্রোজেন আসবে কোথা থেকে? পেট্রোল পাম্প বা সিএনজি স্টেশনের মতোই এই হাইড্রোজেন ট্রেনেও জ্বালানি ভরার দরকার হবে। ভারতীয় রেল দেশের সর্ববৃহৎ হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং ফেসিলিটি হরিয়ানার ঝিন্দে তৈরি করেছে।

এই ট্রেনটির নকশা ও কারিগরি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। এতে ভারতের রেল ইঞ্জিনিয়ারিং কতখানি উন্নত হয়ে উঠেছে তারও একটা স্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়। ভারতীয় রেলের নেতৃত্বে রিসার্চ, ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (আরডিএসও)-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ট্রেনসেটটি তৈরি হয়েছে। যাত্রী বহনের পূর্বে ট্রেনটি নানা পরীক্ষামূলক স্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। এই সমস্ত কিছুর সামগ্রিক মূল্যায়নের পরেই এটিকে চলাচলের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় রেল ঐতিহ্যবাহী রেলপথে এই হাইড্রোজেন ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে কালকা-সিমলা রুট। ঝিন্দ-সোনেপাত হাইড্রোজেন ট্রেন প্রকল্পের পর এই সমস্ত রুটেরও পরীক্ষা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *