শুভাবরি ওয়েব ডেস্ক, ৭ই আগস্ট, কলকাতা:ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্র সদন গত পাঁচ তারিখে যেন পরিণত হয়েছিল ভক্তি, সৌন্দর্য ও শাস্ত্রীয় নৃত্যের এক পুণ্যভূমিতে। এদিন ‘সংকল্প নৃত্যায়ন’, ওডিশি নৃত্যচর্চার প্রতিষ্ঠান, তাদের ২৩তম বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এক অবিস্মরণীয় সন্ধ্যার (‘রাভাশ ২০২৬’) আয়োজন করে।
এটি উৎসর্গিত ছিল পদ্মবিভূষণ গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের উদ্দেশ্যে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যে তাঁর অমর উত্তরাধিকার, অনন্য শিল্পদৃষ্টি এবং অতুলনীয় অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ ও উদযাপন করা হয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ভগবান শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের আরাধনার মাধ্যমে। সন্ধ্যাটি আর সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে বিশিষ্ট ওডিশি নৃত্যশিল্পী সংগীত নাটক আকাদেমির ‘বিসমিল্লা খান’ পুরস্কারপ্রাপ্ত রাজশ্রী প্রহরাজ এবং কেলুচরণ মহাপাত্রের দৌহিত্রী প্রীতিশা মহাপাত্র এর সান্নিধ্যে। গুরু রতিকান্ত মহাপাত্রের নির্দেশনায় তাঁদের মনোমুগ্ধকর ‘অর্ধনারীশ্বর’ পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে ‘জিতবৃত্তি’ (শুভদীপ চক্রবর্তী স্মারক বৃত্তি) প্রদান করা হয় ঋষিতা দাস-কে এবং ‘উদ্ভাস’ (প্রলয় দাশগুপ্ত স্মারক বৃত্তি) প্রদান করা হয় মৃত্তিকা সেনকে।
সবদিক থেকে বিচার করলে ‘রাভাশ ২০২৬’ কেবল একটি বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না। এটি ছিল এক গভীর আবেগময় যাত্রা, যেখানে ভক্তি ও সাধনা একসূত্রে মিলিত হয়েছে, ঐতিহ্য ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করেছে, এবং প্রতিটি তাল-লয়ে প্রতিধ্বনিত হয়েছে চিরন্তন গুরু-শিষ্য পরম্পরার মহিমা।
সুদক্ষ সঞ্চালক রোহন সেনগুপ্ত-র সাবলীল উপস্থাপনায় সমগ্র অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
