ওয়েব ডেস্ক; ২০ আগস্ট: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কৌশল বিকাশ মিশন এবং ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এনএসডিসি)-র সহযোগিতায় কেন্দ্রের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রক (এমএসডিই) বালুরঘাটে ১৮ আগস্ট আয়োজন করল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম কৌশল মহোৎসব। দক্ষিণ দিনাজপুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অসংখ্য যুবক-যুবতী এতে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসংস্থান-কেন্দ্রিক এই মেগা ইভেন্টটি স্থানীয় যুবক-যুবতীদের সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পেশাগত সুযোগ অন্বেষণের একটি মঞ্চ প্রদান করে। মহোৎসব চলাকালীন ৭,৫০০টিরও বেশি ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে, যেখানে ৪,৫০০জনেরও বেশি প্রার্থীকে কর্মসংস্থানের সুযোগের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ৫০টিরও বেশি নিয়োগকর্তা সংস্থা ৭,০০০টিরও বেশি চাকরির সুযোগ এনে দিয়েছে।
অংশগ্রহণকারী নিয়োগকর্তারা ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন, খুচরো ব্যবসা (রিটেল), লজিস্টিকস বা সরফরাহ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, আতিথেয়তা (হসপিটালিটি), খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্র-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যার ফলে তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের বৈচিত্র্যময় পেশা বেছে নেওয়ার সুযোগ প্রশস্ত হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চল উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার; পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী উন্নয়ন এবং সংখ্যালঘু বিষয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু; পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ ও জলপথ এবং আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু; মালদা উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু; বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎ কুমার রায়; তপনের বিধায়ক বদরাই টুডু; গঙ্গারামপুরের বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়; পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিব রাজীব কুমার; এমএসডিই-র অধিকর্তা ভি. এস. অরবিন্দ; দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালাসুব্রহ্মণ্যম টি.; দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্ত এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সমাবেশে বক্তব্য রেখে কেন্দ্রীয় শিক্ষা এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চল উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার শিক্ষা ও দক্ষতাকে কর্মসংস্থান এবং সাফল্যের দুটি প্রধান স্তম্ভ হিসাবে উপস্থাপনা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী ভাবনায় গঠিত স্কিল ইন্ডিয়া মিশন তরুণদের সুদক্ষ করা এবং একইহঙ্গে লাভজনক কর্মসংস্থানে যুক্ত করার জন্য মঞ্চ প্রদান করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।
ড. মজুমদার তরুণদের উৎপাদনশীলতায় প্রযুক্তির ব্যবহার করা এবং শেখা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত অগ্রগতির প্রয়োজনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন। তিনি তরুণদের আজীবন শেখা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন যে, ডিজিটাল ডিভাইসগুলি জ্ঞান ও বৃদ্ধির প্রবেশদ্বার হিসাবে ব্যবহার করা উচিত।
বালুরঘাটে কৌশল মহোৎসব আয়োজনের জন্য তিনি কেন্দ্রীয় দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ (স্বাধীন দায়িত্ব) এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী-র প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের একটি কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে তুলনামূলকভাবে দূরবর্তী অঞ্চলে নিয়ে আসা সরকারের সেই প্রতিশ্রুতিকেই প্রতিফলিত করে, যেটি ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণের কাছে সুযোগ পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করে।
রয়্যাল এনফিল্ড, উইপ্রো, অ্যাক্সিস ব্যাংক, বার্বিকিউ নেশন, ব্লিংক কমার্স, এইচপি কটন ক্যাজুয়ালস, সোডেক্সো, স্পন্দনা স্ফূর্তি ফাইনান্সিয়াল, টাটা প্রজেক্টস, টিভিএস সরবরাহ শৃঙ্খল, কাওয়াসাকি প্রিসিশন মেশিনারি এবং জেপ্টো-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের শীর্ষস্থানীয় নিয়োগকর্তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং এর সফল আয়োজনে অবদান রাখেন।
নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থীদের দৃঢ় অংশগ্রহণ, বিপুল সংখ্যক ইন্টারভিউ গ্রহণ এবং তালিকাভুক্তকরণ শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে দক্ষ তরুণদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর মঞ্চ হিসাবে কৌশল মহোৎসবের সম্ভাবনাকে পুনর্নিশ্চিত করেছে।
