ওয়েব ডেস্ক; ৩০ আগস্ট: সাইকোট্রপিক (মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তারকারী) ওষুধের অবৈধ পাচার ও বিপথগামিতা রোধে এক বড় সাফল্য অর্জন করেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ নারকোটিক্স (সিবিএন )-এর মধ্যপ্রদেশ (এমপি) ইউনিট। মধ্যপ্রদেশের নিমচ ইউনিটের সংগৃহীত সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়।
পাঞ্জাব-হিমাচল প্রদেশ করিডোর দিয়ে সাইকোট্রপিক ওষুধের একটি বিশাল অবৈধ চালান পরিবহনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে, সিবিএন -এর মধ্যপ্রদেশ ইউনিটের একটি বিশেষ প্রতিরোধকারী দল ‘অপারেশন বজ্র ২.০’-এর আওতায় ২৭-২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চণ্ডীগড়-বদ্দি আন্তঃরাজ্য রুটে কৌশলগত অবস্থান নেয় এবং নিবিড় নজরদারি চালায়।
এই অভিযানের ফলে ৬৬,৭৯,৯৮০টি সাইকোট্রপিক ট্যাবলেটের (যার মধ্যে আলপ্রাজোলাম, ট্রামাডল, নাইট্রাজিপাম এবং ক্লোনাজেপাম অন্তর্ভুক্ত ছিল) একটি বিশাল চালান বাজেয়াপ্ত করা হয়, যা কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই পরিবহন করা হচ্ছিল। ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একটি ‘এসএমএল ইসুজু সারতাজ’ ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
সারারাত নজরদারি চালানোর পর, ২৭ আগস্ট দলটি উত্তর প্রদেশের রেজিস্ট্রেশন নম্বরযুক্ত একটি সন্দেহভাজন ‘এসএমএল ইসুজু সারতাজ’ ট্রাক আটক করে এবং বিস্তারিত তল্লাশির জন্য সেটিকে একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
কার্গো বা মালপত্রের প্রতিটি কার্টন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে নিয়ন্ত্রিত সাইকোট্রপিক উপাদানযুক্ত ১২০টি মাস্টার কার্টন উদ্ধার করা হয়। এই চালানে আলপ্রাজোলাম, ট্রামাডল, নাইট্রাজিপাম এবং ক্লোনাজেপাম ট্যাবলেট ছিল, যার মোট সংখ্যা ছিল ৬৬,৭৯,৯৮০টি।
প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা যায় যে, অবৈধ সরবরাহ ব্যবস্থা গোপন করতে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি এড়াতে বেশ কিছু সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক ব্লিস্টার স্ট্রিপ এবং বাক্স থেকে ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মুছে ফেলা হয়েছিল।
এছাড়া, চালানটিতে এমন বিপুল পরিমাণ ওষুধ পাওয়া যায় যাতে “পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যে বিক্রয়যোগ্য নয়” কথাটি লেখা ছিল; অথচ ইনভয়েস, বিলটি বা ই-ওয়ে বিলের মতো কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই সেগুলো ওই অঞ্চলে পরিবহন করা হচ্ছিল।
সারারাত ধরে ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিস্তারিত তালিকা তৈরি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সিল করার প্রক্রিয়া চলে। ৬৬,৭৯,৯৮০টি সাইকোট্রপিক ট্যাবলেটের সম্পূর্ণ চালানটি এবং পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ‘এসএমএল ইসুজু সারতাজ’ ট্রাকটি ‘নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্টেন্সেস (এনডিপিএস) অ্যাক্ট, ১৯৮৫’-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এনডিপিএস আইন, ১৯৮৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আন্তঃরাজ্য ওষুধ পাচার ও অপব্যবহারের এই বড় চক্রটির সাথে জড়িত উৎপাদন ও সরবরাহকারী উৎস এবং বিতরণ নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও নির্মূল করার লক্ষ্যে নিবিড় তদন্ত চলছে। এই তদন্তের মাধ্যমে সাইকোট্রপিক ওষুধগুলোর অবৈধ পাচার ও অপব্যবহারের সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ নারকোটিক্স “ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার” এবং “নশা মুক্ত ভারত অভিযান”-এর লক্ষ্যের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংস্থাটি মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক পদার্থের অবৈধ পাচার ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা-ভিত্তিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে।
চলতি ২০২৬ সালে, সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ নারকোটিক্স চোরাচালান-বিরোধী কার্যক্রমে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে; তারা অবৈধ মাদক চক্রের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ১৯৭টি মামলা দায়ের করেছে এবং ২৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সিন্থেটিক মাদক উৎপাদন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে সংস্থাটি সফলভাবে ৬টি গোপন গবেষণাগার ধ্বংস করেছে। এছাড়া, সংস্থার ব্যাপক অভিযানের ফলে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক আটক করা সম্ভব হয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫১,০০০ কেজি বিভিন্ন এনডিপিএস তালিকাভুক্ত মাদক এবং সেই সঙ্গে ১২,৭২,০০,০০০টি সাইকোট্রপিক ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল।
