কলকাতা; ৬ সেপ্টেম্বর : ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি (NIH), কলকাতা তাদের স্বর্ণজয়ন্তী উদযাপন করল। এই উপলক্ষে অত্যাধুনিক মডিউলার অপারেশন থিয়েটার (OT) কমপ্লেক্স এবং বিশেষায়িত সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের উদ্বোধন করলেন আয়ুষ মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব, শিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার, সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো, আয়ুষ মন্ত্রকের সচিব ও যুগ্মসচিব, মন্ত্রকের পদস্থ আধিকারিক এবং চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতাপরাও যাদব NIH-এর ৫০ বছরের যাত্রাকে এক গৌরবময় অর্জন বলে উল্লেখ করেন। প্রতিষ্ঠানের এই দীর্ঘ যাত্রার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে তিনি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “৫০ বছর পূর্ণ করা এক গৌরবময় ঘটনা। NIH-এর সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের ঐতিহ্য স্মরণ করার এটি একটি মুহূর্ত। এই ৫০ বছরে NIH নিরন্তর উন্নতি করেছে এবং হোমিওপ্যাথি শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মানুষের সেবা করাই NIH-এর সবচেয়ে বড় শক্তি।”
তিনি বলেন, দেশ এখন হোমিওপ্যাথির ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা ধারাবাহিক ভাবে উন্নত করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ক্ষেত্রটির নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি, নিজেদের পেশা নিয়ে গর্বিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, “আমরা বিকশিত ভারতের দিকে এগিয়ে চলেছি। এই যাত্রায় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
নব-উদ্বোধিত পরিকাঠামো সম্পর্কে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই উদ্বোধন সর্বজনীন ও সমন্বিত স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার জাতীয় লক্ষ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। অত্যাধুনিক অপারেশনাল পরিকাঠামো এবং নির্দিষ্ট সেন্টার অফ এক্সেলেন্স প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা জ্ঞানের সঙ্গে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সমন্বয় ঘটাচ্ছি। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।”
স্বর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হোমিওপ্যাথি শিক্ষা, গবেষণা, ক্লিনিক্যাল পরিষেবা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় NIH-এর পাঁচ দশকের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নবপ্রতিষ্ঠিত সেন্টার অফ এক্সেলেন্স সামগ্রিক রোগী পরিষেবা, ক্লিনিক্যাল গবেষণা এবং উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আয়ুষ ব্যবস্থা ও আধুনিক চিকিৎসা গবেষণার মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করবে।
নবনির্মিত মডিউলার অপারেশন থিয়েটারে রয়েছে অত্যাধুনিক ল্যামিনার এয়ারফ্লো ব্যবস্থা, হাই-ডেফিনিশন ডিজিটাল ইমেজিং প্ল্যাটফর্ম এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী রোবোটিক ইন্টিগ্রেশন। রোগী ও চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তার মান আরও শক্তিশালী করা, সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো এবং উন্নত অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার জন্য এই পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
গতকাল, অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, NIH পরিদর্শনের সময় প্রতাপরাও যাদব আয়ুষ মন্ত্রকের পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। হোমিওপ্যাথির আরও উন্নয়নের বিষয়ে তাঁদের মতামত, সমস্যা ও পরামর্শ জানতেই এই আলোচনা করা হয়।
মতবিনিময়ের সময় ছাত্রছাত্রীরা NIH-এর শিক্ষার পরিবেশ, রোগী পরিষেবার সুযোগ এবং ক্লিনিক্যাল শিক্ষার পরিকাঠামোর প্রশংসা করেন। NIH-এ ছাত্রছাত্রী ও প্রশিক্ষণরতদের বিপুল সংখ্যক রোগীর সঙ্গে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীরাও রয়েছেন। স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণার্থী ও ইন্টার্নরাও রোগী পরিষেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। একই সঙ্গে তাঁরা ক্লিনিক্যাল ও অ্যাকাডেমিক অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন।
নতুন হাসপাতাল ভবন, অ্যানিম্যাল হাউস এবং ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যানালিসিস ল্যাবরেটরির দাবিগুলি উপযুক্ত ছাতার প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে পূরণের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর ছাত্রছাত্রী ও ইন্টার্নদের স্টাইপেন্ড বৃদ্ধি, হাউসস্টাফশিপ এবং NTET পরীক্ষায় বৈষম্য সংক্রান্ত বিষয়গুলিও সংশ্লিষ্ট আয়ুষ প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে বিবেচনা করা হবে। এর লক্ষ্য হল গোটা ব্যবস্থায় একটি অভিন্ন ও ন্যায়সঙ্গত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।
অঞ্চলভিত্তিক হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দাবিও আয়ুষ মন্ত্রক বিবেচনা করছে। দেশের বিভিন্ন আয়ুষ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও উন্নত করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
NIH-এ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য বিপুল সংখ্যক রোগীর উপস্থিতির প্রশংসা যাদব একাধিকবার করেছেন। চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠানে আসা বিপুল সংখ্যক রোগী NIH-এর প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সুকান্ত মজুমদার NIH-এ গড়ে ওঠা সমন্বিত পরিকাঠামোর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা ক্ষেত্রে উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি উৎকৃষ্ট অ্যাকাডেমিক কেন্দ্র হিসাবে কাজ করবে।
বিশেষ বক্তব্যে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথির অধিকর্তা ড. প্রলয় শর্মা বলেন, “এই অত্যাধুনিক মডিউলার অপারেশন থিয়েটার এবং সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের উদ্বোধন আমাদের প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ। গোল্ডেন জুবিলি বর্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ফের জানিয়ে দিতে চাই, NIH শুধু একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি অনুভূতি, একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবার এবং মানবতার সেবায় নিবেদিত একটি জাতীয় আন্দোলন। এই পরিকাঠামো আমাদের গবেষক ও ছাত্রছাত্রীদের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা এবং আধুনিক অস্ত্রোপচারের নিখুঁত প্রযুক্তির মধ্যে ব্যবধান দূর করতে সক্ষম করবে। রোগী পরিষেবায় আন্তর্জাতিক মান স্থাপনের পথও প্রশস্ত করবে।”
