ওয়েব ডেস্ক; ১৮ সেপ্টেম্বর : অনুমোদনহীন বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নতুন দিল্লির বাণিজ্য ভবনে ১৬ -১৭ সেপ্টেম্বর ভারত – নেপাল বাণিজ্য, যাতায়াত ও সহযোগিতা সংক্রান্ত আন্তঃসরকারি সাব – কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।

ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভারত সরকারের বাণিজ্য বিভাগের যুগ্ম সচিব উজ্জ্বল কুমার ঘোষ। নেপালের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সেদেশের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব বুদ্ধ বাহাদুর গুরুং। দুদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা বৈঠকে যোগ দেন।

এই আন্তঃসরকারি সাব- কমিটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যাতায়াত সহজ করা এবং বাণিজ্য বিষয়ক বিশদ পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।

বৈঠকে দুই পক্ষ বাজারে প্রবেশাধিকার, শুল্ক ও বাণিজ্য সুবিধা, খাদ্য সুরক্ষা, উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিধি, ওষুধ শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আয়ুষ পণ্য, সীমান্ত পরিকাঠামো, রেল ও সড়ক যোগাযোগ সহ বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের বিশদ পর্যালোচনা করে।

ভারত ও নেপালের পণ্যের জন্য বৃহত্তর বাজারের প্রবেশাধিকার সহজ করার পন্থা পদ্ধতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া কৃষিপণ্য, দুগ্ধজাত পণ্য, খাদ্য পণ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আয়ুষ পণ্য প্রভৃতি নিয়েও আলোচনা হয়।

দু-পক্ষ শুল্ক সহযোগিতা ও বাণিজ্য বিধি সহজ করার পন্থা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছে। বৈধ বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি বিধিনিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করা নিয়ে কথা হয়।

উভয় পক্ষ রেল ও সড়ক সংযোগ, পণ্য চলাচল, সংযুক্ত চৌকি ও স্থল বন্দর পরিকাঠমো পর্যালোচনা করেন। বর্তমান পরিকাঠামোর পূর্ণ সদ্ব্যবহার এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করা নিয়ে মত বিনিময় হয়।

দুই দেশ আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য সহজতর করতে এবং অনুমোদনহীন বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক জালিয়াতি রোধ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ভারত ও নেপালের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ভারত নেপালের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং বিনিয়োগের এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস। আন্তঃসরকারি এই আলোচনা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, যাতায়াত এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বলে আশা করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *