ওয়েব ডেস্ক; ২৪ সেপ্টেম্বর : সোনা চোরাচালানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে, ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই) সারা দেশে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ সোনা ও অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। এর মধ্যে দুটি পৃথক অভিযানে প্রায় ২১ কেজি বিদেশি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মূল্য ৬১ কোটি টাকারও বেশি। কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬২-এর বিধান অনুযায়ী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, ডিআরআই – এর আধিকারিকরা পালওয়াল টোল প্লাজার কাছে দুটি নতুন ‘থর’ গাড়ি আটক করেন। গাড়ি দুটির গায়ে অত্যন্ত কৌশলী ও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে গোপন স্থান তৈরি করা হয়েছিল। পেছনের চাকার ওপরে গাড়ির একটি অংশ কেটে সরিয়ে পুনরায় দক্ষ হাতে ঝালাই করে এই গোপন স্থানটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে তা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। গাড়িগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করার পরই কর্মকর্তারা গোপন স্থানটি খুঁজে পেতে সক্ষম হন। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে গাড়ি দুটি থেকে মোট ১৫.১৮ কেজি ওজনের সোনার বার উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য ২৩.৩০ কোটি টাকা। গাড়িগুলির সঙ্গে থাকা চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই সোনা মায়ানমার থেকে চোরাচালান করে আনা হয়েছিল।

এর আগে, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আরেকটি অভিযানে ডিআরআই – এর আধিকারিকরা জেওয়ার টোল প্লাজায় বাসে করে গোরক্ষপুর থেকে দিল্লির দিকে যাওয়া এক যাত্রীকে আটক করেন। তার দেহে তল্লাশি করে বিদেশি সোনা উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর মধ্যে ছিল পাঁচটি ১ কেজির সোনার বার এবং প্রায় ৮০০ গ্রাম ওজনের সোনার টুকরো। এই সোনা একটি বিশেষ নকশায় তৈরি সুতির কোমরের বেল্টের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। শুল্ক আইন, ১৯৬২-এর আওতায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাঠমান্ডুতে তাকে এই সোনা হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং ভারত-নেপাল স্থলসীমান্ত দিয়ে তা ভারতে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে ।
ডিআরআই – এর আধিকারিকরা গত তিন সপ্তাহে, সারা দেশে বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ১২৩ কেজি সোনা ও প্রায় ১০ কেজি রূপা বাজেয়াপ্ত করেছেন। এর সম্মিলিত মূল্য ১৮৭ কোটি টাকারও বেশি। সোনা চোরাচালানের অভিযোগে ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানগুলি সংগঠিত সোনা চোরাচালান চক্রকে ভেঙে দেওয়া এবং চোরাচালানের ক্রমবর্ধমান অত্যাধুনিক পদ্ধতিগুলি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ডিআরআই – এর অব্যাহত প্রচেষ্টাকেই তুলে ধরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *