ওয়েব ডেস্ক; ১৪ অক্টোবর : প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রতিরক্ষা বাহিনীর ক্রীড়াবিদদের সংবর্ধনা দিলেন। তাঁরা জাপানে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস-এ ৬টি সোনা, ১১টি রুপো, ১০টি ব্রোঞ্জ সহ ২৭টি পদক পেয়েছেন। উপভোক্তা বিষয়ক খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাহিনীর এ যাবৎ সেরা কৃতিত্ব উদযাপন করার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ৩ বাহিনীর মোট ৯২ জন অ্যাথলিট ১৯টি বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বতি করে এবং ভারতের চতুর্থ স্থান লাভে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। ভারতীয় দল সব মিলিয়ে ২১ সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ সহ ৮৫টি জিতেছেন।

নতুন দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁদের সাফল্যের কারণ হিসেবে শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম, দলগত সংহতি এবং ক্রীড়া উৎকর্ষকে উল্লেখ করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, পদক জয়ের এই যাত্রার সঙ্গে যুক্ত প্রবল নিষ্ঠা, ভোরবেলায় প্রশিক্ষণ, জিম, আহত হওয়া, সেরে ওঠা এবং লাগাতার প্রয়াস। সেইসঙ্গে ক্রীড়ার জন্য প্রস্তুতি ও পরিবার ছেড়ে থাকার সঙ্গে বাহিনীর কাজ করা।

যাঁরা পদক জিততে পারেননি, সেইসব অ্যাথলিটদের উদ্দেশে রাজনাথ বলেন, প্রকৃত পরাজয় হয় হাল ছেড়ে দিলে। তিনি বলেন যে, প্রত্যেক প্রতিযোগীই দেশ এবং বাহিনীর হয়ে কোনও না কোনও ভাবে দেশের জন্য সম্মান আনার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। বাহিনীর অ্যাথলিটদের ক্ষমতায় আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেছে, তাঁদের সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করে যাবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, মিশন অলিম্পিক উইং প্রতিভাবান অ্যাথলিটদের চিহ্নিত করতে, তাঁদের লালন পালন করতে, বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রশিক্ষণ দিতে, বিশ্বমানের সুবিধা দিতে এবং আন্তজার্তিক প্রতিযোগিতার জন্য তাঁদের প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, ফিজিওথেরাপিস্ট, পুষ্টিবিদ, অ্যাথলিটদের পরিবারের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একা একা কেউ চ্যাম্পিয়ান হতে পারে না।

তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের ক্রীড়া পরিমণ্ডলকে শক্তিশালী করার জন্য ভারত সরকারের দায়বদ্ধতার কথা পুনরায় জানিয়েছেন, যেখানে জোর দেওয়া হয় পরিকাঠামো, আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং অ্যাথলিটদের জন্য ভালো সুযোগের ওপর। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে দেশের লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং বিশ্ব মানচিত্রে ভারতকে সামনের সারির শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

ভারতীয় ক্রীড়া বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান নিয়ে বলতে গিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিরক্ষা বাহিনী শুধু শারীরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে খেলোয়াড় বাছে না, দেখা হয় শৃঙ্খলা, ধৈর্য, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা এবং সংকটময় পরিবেশে লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকার বিষয়টি।

২০২৮-এর লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের লক্ষ্যে আরও পদ্ধতিগতভাবে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে অনুশীলনের আহ্বান জানান শ্রী রাজনাথ সিং। প্রশিক্ষক এবং সাপোর্ট স্টাফদের নিষ্ঠা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে অ্যাথলিটদের দিক নির্দেশ করতে বলেন তিনি। তিনি বলেন, লক্ষ্য উঁচুতে রাখতে এবং অলিম্পিকে আরও ভালো ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে।

সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ এবং অন্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *