দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের অধীনে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় ০৩ জন মহিলা ও দুই শিশুসহ সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে যাওয়ার সময় ০৪ জন বাংলাদেশিকে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসার সময় ০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১ লা জুলাই ভোর নাগাদ নদিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নিযুক্ত ৯৯ ব্যাটেলিয়নের সীমা চৌকি , মামাভাগীনার জওয়ানরা আন্তরাষ্ট্রীয় সীমান্ত পার করার সময় ০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক কে গ্রেপ্তার করে । গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়:-
i ) তানিয়া শেখ (বয়স ২৭ বছর), পিতা- রফিকুল ইসলাম, গ্রাম- আসপোল্দি, থানা – নাগরকান্দা, জেলা – ফরিদপুর, বাংলাদেশ
ii) স্বপ্না শেখ, বয়স ২৬ বছর, গ্রাম – জামরিলডাঙ্গা, থানা – পালোদি, জেলা যশোর, বাংলাদেশ।
iii ) রুকসানা রবিউল শেখ বয়স ১৫ বছর, পিতা – রবিউল শেখ।
iv ) সুহানা গাজিরহাট রবিউল শেখ, বয়স ১০ বছর, পিতা- রবিউল শেখ
দু’জনই বাংলাদেশের গাজিরহাট, পোস্ট – খুলনা, জেলা- যশোর, বাংলাদেশের বাসিন্দা।
দ্বিতীয় ঘটনা নদিয়া জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিযুক্ত ০৮ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা ০৩ জন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে । যারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার চেষ্টা করছিলো । যাদের পরিচয়:-
i ) দেবব্রত সরকার, ৪৫ বছর , পিতা- স্বর্গীয় দুলাল চন্দ্র সরকার।
ii ) মিলন রানী সরকার, বয়স ৬৫ বছর, স্বামী- স্বর্গীয় দুলাল চন্দ্র সরকার,
দু’জনইগ্রাম – হলদিপাড়া, থানা-হংসখালী, জেলা-নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।
iii ) সঞ্জিত সরকার, বয়স ৪৩ বছর, পিতা- স্বর্গীয় দুলাল চন্দ্র সরকার, গ্রাম- সালতিয়া, থানা- হাবড়া, জেলা- নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় মিলন রানী সরকার জানিয়েছে যে সে এবং দেবব্রত সরকার, এবং সঞ্জিত সরকার মা ও ছেলে এবং তারা ৪০ বছর আগে ভারতে এসে বসবাস শুরু করেছিলো । সে আরও বলে যে তার ভাইয়ের মৃত্যুর কারণে তারা প্রত্যেকে ১৩ দিন আগে বাংলাদেশে গিয়েছিল। আজ মিলন নামে এক বাংলাদেশী দালাল এবং তার অন্য দুই সহযোগীর সাহায্যে তারা ভারতে ফিরে আসছিল এবং সীমান্ত পার হওয়ার জন্য দালালকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছিল ।
৯৯ ব্যাটেলিয়ন দ্বারা গ্রেপ্তার হওয়া মহিলাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে রুকসানা এবং সুহানা দুজনই বোন এবং মুম্বাইয়ের নিউ পানভেল-এ অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে এবং ছোটবেলায় তারা বাবা-মায়ের সাথে ভারতে এসেছিলো । আজ তারা তাদের সাথে বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছিলো , কিন্তু তারা বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে এবং তাদের বাবা-মা পালিয়ে যায় । তানিয়া শেখ বলেছে যে সে ০৯ মাস আগে ভারতে এসেছিলো এবং মুম্বাইয়ের পানভেলের তুলসী সদন সোসাইটিতে সহযোগীর কাজ করতো । স্বপ্না শেখ জানিয়েছে যে সে তার বাবা-মার সাথে দু’বছর বয়সে ভারতে এসেছিলো এবং ০৯ বছর আগে বিহারের কাটিহার জেলার বাসিন্দা ইসলাম শেখের সাথে প্রেম বিবাহ হয় এবং তার দুটি মেয়েও রয়েছে। তানিয়া ও স্বপ্না দুজনেই জানিয়েছে যে তারা ভারতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করে নিয়েছে । দু’জনেই জানিয়েছে যে তারা ভারতীয় দালাল সাফিক এবং তার এক সহযোগীর সহায়তায় বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছিল। তারা দালালকে ১০-১০ হাজার টাকাও দিয়েছে।
গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
বিএসএফের জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে , যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। যার কারণে অনুপ্রবেশকারী এবং দালালরা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজন ধরা পড়েছে এবং আইন অনুসারে তাদের শাস্তিও দেওয়া হচ্ছে।
