কেন্দ্রীয় জৈব প্রযুক্তি দপ্তরের ভুবনেশ্বরের ইনস্টিটিউট অফ লাইফ সায়েন্স এবং তামিলনাড়ুর এসআরএম ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিজ্ঞানীরা প্রথমবার নোনা পরিবেশে বেঁচে থাকা গাছ – ম্যানগ্রোভ প্রজাতির অ্যাভিসেনিয়া ম্যারিনার জিন বিন্যাস করেছেন।
সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায়, মোহনা অঞ্চলে জলাভূমিতে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ দেখা যায়। লবণাক্ত পরিবেশে এই গাছ বেঁচে থাকে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির উদ্ভিদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের রক্ষায় এবং আর্থিক মূল্যের দিক থেকে এই প্রজাতির গুরুত্ব অপরিসীম। সামুদ্রিক এবং স্থলভাগের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ। উপকূলবর্তী অঞ্চলকে রক্ষা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জৈব বৈচিত্রও এই গাছ বাঁচিয়ে রাখে।
অ্যাভিসেনিয়া ম্যারিনা ভারতবর্ষের সব ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে পাওয়া যায়। ৭৫ শতাংশ সামুদ্রিক জলের মধ্যে এই গাছ বেঁচে থাকে। এর সবচাইতে অনন্য বৈশিষ্ট হল, এই গাছের মধ্যে নুন গ্রন্থি থাকে। এই গ্রন্থির সাহায্যে শেকড়ের মাধ্যমে গাছের শরীরে যতটা নুন ঢোকে তার প্রায় ৪০ শতাংশ নুন বেরিয়ে যায়।
সম্প্রতি এসংক্রান্ত একটি প্রকাশনায় জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ থেকে জিন বিশ্লেষণের পর দেখা গেছে, এই ধরণের গাছে ৩১,৪৭৭ রকমের প্রোটিন উৎপাদনক্ষম জিন রয়েছে। এছাড়াও ৩২৪৬ রকমের নোনা আবহাওয়ায় সহনক্ষম জিন আছে। এই জিনগুলির গঠন মোটামুটি একই ধরণের। এই গবেষণাটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। পৃথিবীতে মিষ্টি জলের ভান্ডার কম, অথচ নোনা জলের ভান্ডার বেশি। ফলে শুকনো এলাকায় কৃষিকাজে সমস্যা দেখা যায়। পৃথিবী পৃষ্ঠের ৪০ শতাংশ স্থলভাগ। বিশ্বে ৯০ কোটি হেক্টর জমি লবণাক্ত এলাকায়। যার মধ্যে ভারতে ৬৭ লক্ষ ৩০ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। এর ফলে ওই সব জমি ব্যবহার করতে না পারায় প্রতি বছর প্রায় ২৭০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়। নতুন এই জিন বিন্যাস সম্পর্কে ধারণার পর গবেষকরা এমন শস্যবীজ তৈরি করার কাজ শুরু করবেন, যেটি শুকনো অঞ্চলে এবং নোনা জলের মধ্যে বেঁচে থাকে। এই ধরণের শস্যবীজ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের জন্য যথেষ্ট লাভবান হবে। বিশেষ করে ভারতের মতো দেশে এর আলাদা ইতিবাচক আর্থিক প্রভাব পড়বে। ভারতে ৭৮০০ মিটার উপকূল রেখা ছাড়াও দুটি বৃহৎ দ্বীপভূমি রয়েছে।
