সরোজ ঘোষ

সত্যজিৎ রায়ের ‘অভিযান’এ রবি ঘোষ একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ভাড়া গাড়ি চালক, রবি ঘোষ হেল্পার। এই অভিযান সিনেমাটি ১৯৬২ সালের।

তখন থেকে সত্যজিৎ রায়ের ভাবনায় ছিল ‘গুপী গাইন ও বাঘা বাইন’ ছবিটি। সেই সময় ই তিনি বাঘা চরিত্রে রবি ঘোষকে ঠিক করে রেখেছিলেন। যদিও গুপী চরিত্রে না না সময় না না জনকে ভাবা হয়েছিল। প্রথমে গুপী চরিত্রে ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ র অরুণ মুখোপাধ্যায়কে ভাবা হলেও পরে মত পাল্টে ঠিক করেন কিশোর কুমারকে নেবেন। এতে বাড়তি সুবিধা অভিনয়ের সঙ্গে গুপীর গলার গানগুলি কিশোর কুমার গাইতে পারবেন। কিন্তু ডেট সমস্যার জন্য কিশোর কুমারকে পাওয়া গেল না। তারপর এল ‘সত্যযুগ’ পত্রিকার সম্পাদক জীবন মুখোপাধ্যায় এর নাম সে নাম ও টিকলো না।

প্রযোজনা নিয়ে নানা সমস্যা ছিল। সাহস করে এই ছবিতে টাকা ঢালতে কেউ এগিয়ে আসছিলেন না। এই অবস্থায় হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো রাজ কাপুর এলেন প্রযোজনার দায়িত্ব নিতে। স্বাভাবিকভাবে সত্যজিৎ রায় নিশ্চিন্ত হলেন। কিন্তু রাজ কাপুর একটি শর্ত দিলেন। কি শর্ত — ‘বাঘা’ চরিত্রে শশী কাপুরকে নিতে হবে। কিন্তু এই শর্ত সত্যজিৎ রায়ের পক্ষে মানা সম্ভব হয়নি। রাজ কাপুর হয়তো ভেবেছিলেন শশী কাপুর এর মত জনপ্রিয় স্টার থাকলে ছবিটির বাণিজ্যিক সাফল্য অনেকটাই নিশ্চিন্ত হতে পারবে, এবং সত্যজিৎ ও মানবেন।
কিন্তু ছবির সাথে সত্যজিৎ যে কখনোই কম্প্রোমাইজ করেন না। ‘গুগা বাঘা’ ছবিতে বাঘার চরিত্রে রবি ঘোষই তার সঠিক নির্বাচন, এর বিকল্প নেই।
‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ শশী কাপুরের জায়গা নয়। তবে সত্যজিতের ছবিতে শশী কাপুর এর অভিনয়ের পরিসরও নির্দিষ্ট আছে। পরবর্তীকালে সত্যজিৎ পুত্র সন্দ্বীপের হিন্দি টিভি সিরিয়াল ‘কিস্যা কুর্সীকা’ ফেলুদার ভূমিকায় শশী কাপুর অভিনয় করেন, এটাই শশী কাপুরের আসল জায়গা। ‘বাঘা’র ভূমিকায় রবি ঘোষ সপ্রতিভ, তেমনি ফেলুদা আর শশী চরিত্র-চিত্রনের দিক থেকে অনেকটাই ‘মেড ফর ইচ আদার।’