অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন সীমান্তরক্ষী বাহিনী দুই বাংলাদেশী মহিলাকে আটক করে । উভয় মহিলাই ভারত থেকে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলো ।
সীমান্তরক্ষী বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে যে, ৯৯ ব্যাটেলিয়ন সীমান্ত চৌকি , জিতপুরের জওয়ানরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ০৬-০৭ আগস্ট মধ্যরাতে দুই বাংলাদেশী মহিলাকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় আটক করে । গ্রেফতারকৃত মহিলাদের পরিচয় i ) রীনা আক্তার, (কাল্পনিক নাম) বয়স ২২ বছর, জেলা- নরসিংহডি , বাংলাদেশ, ii) অরিনা খান, (কাল্পনিক নাম) বয়স২০ বছর, জেলা – কিশোরগঞ্জ, বাংলাদেশ।
বন্ধুর কথামতো ভারত আসে , সেই বন্ধুই তাকে পতিতাবৃত্তিতে ঠেলে দেয়
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উভয় মহিলাই স্বীকার করেছে যে তারা বাংলাদেশের বাসিন্দা। আরও জিজ্ঞাসাবাদে, রীনা আক্তার (কাল্পনিক নাম) বলেছে যে মোবাইলে আবির নামের একটি ছেলের সাথে তার বন্ধুত্ব হয়েছিলো , যার নির্দেশে সে এক বছর আগে ভারতে আসে । আবির তাকে দিল্লিতে নিয়ে যায় এবং তাকে সেখানে একটি বাড়িতে বন্দী করে এবং প্রতিদিন পতিতাবৃত্তির কাজ করাতে শুরু করে। কয়েক মাস পর, সে আবিরকে কোনোভাবে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয় এবং সুযোগ পেয়েই সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আজ সে এক অপরিচিত ভারতীয় দালালের সাহায্যে বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছিল।সে দালালকে ১০০০/- টাকাও দিয়েছে।
বন্ধুর উদ্দেশ্য সৎ ছিল না, সুযোগ পেয়েই পালিয়ে যায়
অরিনা খান (কাল্পনিক নাম) জানিয়েছে যে সে ২০ দিন আগে হৃদয় নামের এক বাংলাদেশি বন্ধুর সঙ্গে ভারতে এসেছিলো । হৃদয় তাকে দিল্লিতে নিয়ে যায় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হৃদয় জোর করে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। সে আরও বলেছে যে বুজতে পেরেছিলো যে হৃদয় দালালের সাথে তার চুক্তি করতে চলেছে, সুযোগ দেখে সে সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হয়। শিয়ালদহে, তার রীনা আখতারের সাথে দেখা হয় এবং তারা দুজনেই এক অপরিচিত ভারতীয় দালালের সহায়তায় বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছিলো । সেও দালালকে ১০০০/- টাকা দিয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মহিলাদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য বাগদা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৯৯ ব্যাটেলিয়ন এর কমান্ডিং অফিসার শ্রী রবি কান্ত বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। যার মধ্যে থেকে কিছু লোক এবং দালাল ধরা পড়ছে। যাদের জিজ্ঞাসাবাদে এটা সামনে এসেছে যে দরিদ্র ও নিরীহ মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের ভারতে কাজ করানোর অজুহাতে আনা হচ্ছে এবং তাদেরকে পতিতাবৃত্তির চক্রে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একবার এই জঘন্য কাজে প্রবেশ করলে সমস্ত রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এই ধরনের অপরাধীদের কঠোর লাগাম টানতে, বিএসএফ এন্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট মোতায়েন করেছে, যা নিরীহ মেয়েদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
