০২টি পৃথক ঘটনায়, দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা গত ২৪ আগস্ট, পৃথক পৃথক ঘটনায় ০২ জন বাংলাদেশি চোরাচালানকারীকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও মোবাইল ফোনসহ অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করার সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক করা ওষুধ এবং মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ৪,১৯,২৭৫/-টাকা। উত্তর ২৪পরগনা জেলার আইসিপি পেট্রাপোল এলাকা দিয়ে এই সব ওষুধ ও মোবাইল ফোন বাংলাদেশে পাচার করার চেষ্টা হচ্ছিল।

প্রথম ঘটনায়, বিএসএফ আইসিপি পেট্রাপোলের ১৭৯ ব্যাটালিয়ন এর জওয়ানরা তাদের দৈনিক রুটিন ডিউটি ​​চলাকালীন, ২৪ আগস্ট বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্য বহনকারী যানবাহনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করছিল। সেই সময় বেলা আনুমানিক ১১ টা ৪০ মিনিটের দিকে, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা একটি সন্দেহজনক ট্রাক ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে যেতে দেখে যা ভারত থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্য (গম) নিয়ে যাচ্ছিল। নিরাপত্তা চেকের সময় জওয়ানরা যখন ট্রাকটি তল্লাশি করে, তখন তার কেবিনের ভেতরে ড্যাশ বোর্ড থেকে ০৩ টি নতুন মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। যা ট্রাক চালক অবৈধভাবে কোন কাগজপত্র ছাড়াই বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। জোয়ানরা ট্রাকের সাথে ওই মোবাইল ফোনগুলি বাজেয়াপ্ত করে এবং ট্রাক চালককেও (চোরাচালানকারী) হেফাজতে নিয়ে নেয়। চোরাচালানকারির পরিচয় – বক্কর আলি মণ্ডল ,বয়স – ২৬ বছর, গ্রাম – মেদিয়াহাট, থানা- গোপালনগর, জেলা – উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় গ্রেফতারকৃত পাচারকারী বক্কর আলী মণ্ডল জানাই যে সে একজন ভারতীয় নাগরিক এবং বর্তমানে গোপাল নগরে (পশ্চিমবঙ্গ) স্থায়ীভাবে বসবাস করে। সে আরও জানায় যে সে একজন ট্রাক চালক হিসেবে কাজ করে এবং নিয়মিত বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্য নিয়ে যায়। ২৪ আগস্ট, যখন সে রপ্তানি পণ্য (গম) নিয়ে পেট্রাপোল পার্কিং লট থেকে ট্রাক বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছিল, তখন জায়দুল আলী মন্ডল নামে একজন তাকে এই মোবাইল ফোনগুলি রাত ১১ টার সময় দিয়েছিল যা বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সে আরও বলে যে এই মোবাইল ফোনগুলি আইসিপি বেনাপোল (বাংলাদেশ) পৌঁছানোর পর কিতাবুল মণ্ডল নামে একজন বাংলাদেশী ব্যক্তিকে দিতে হতো। কিন্তু আইসিপি (আন্তর্জাতিক সীমান্ত) অতিক্রম করার আগেই যানবাহন যাচাইয়ের সময় বিএসএফ তাকে মোবাইল ফোন সহ ধরে ফেলে।

দ্বিতীয় ঘটনায়, একই দিনে বিএসএফ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইসিপি পেট্রাপোল, ১৭৯ ব্যাটালিয়ন, সেক্টর কলকাতার জওয়ানরা আইসিপি পেট্রাপোলের পার্কিং এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায়।আনুমানিক বিকাল ০৪ টে নাগাদ জওয়ানরা ০১ টি সন্দেহভাজন ট্রাক দেখে এবং শীঘ্রই কোম্পানি কমান্ডার ঘটনা সম্পর্কে কাস্টম অফিসকে অবহিত করেন এবং কাস্টমস অফিসারের উপস্থিতিতে বিএসএফ জওয়ানরা ট্রাকে তল্লাশির দৌড়ান জোয়ানরা প্লাস্টিকে মোড়ানো ওষুধের ০৪ টি প্যাকেট দেখতে পায় যা রপ্তানি পণ্যের সাথে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। যা অবৈধভাবে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হতো । জওয়ানরা সমস্ত ওষুধ বাজেয়াপ্ত করে এবং ট্রাক চালককে (পাচারকারী) হেফাজতে নিয়ে নেয়। গ্রেফতারকৃত পাচারকারীর নাম প্রশান্ত বিশ্বাস, বয়স- ৩৭ বছর, সুভাষ পল্লী, বনগাঁ, জেলা- উত্তর ২৪ পরগনা।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় গ্রেফতারকৃত চোরাচালানকারী প্রশান্ত বিশ্বাস জানায় যে সে একজন ভারতীয় নাগরিক এবং সে স্থায়ীভাবে বনগাঁয় থাকে। সে আরও জানায় যে সে একজন ট্রাক চালক হিসেবে কাজ করে এবং নিয়মিত বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্য নিয়ে যায়। ২২ আগস্ট, যখন সে রপ্তানি সামগ্রী (তুলা) নিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য পেট্রাপোলে পৌঁছাই এবং পার্কিং এলাকায় ট্রাক দাঁড় করাই, তখন রাত ১০ টার দিকে বনগাঁর বাসিন্দা বান্টি নামে একজন তাকে এই ওষুধগুলি দেয় যা বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সে আরও বলে যে এই সমস্ত ওষুধ আইসিপি বেনাপোল (বাংলাদেশ) পৌঁছানোর পর স্লিম কসমেটিক শপে দিতে হতো। কিন্তু আইসিপি (আন্তর্জাতিক সীমান্ত) অতিক্রম করার আগেই গাড়ি চেকিংয়ের সময় বিএসএফ তাকে ওষুধসহ ধরে ফেলে।

গ্রেফতারকৃত চোরাচালানকারী এবং আটককৃত সামগ্রী উভয়ই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কাস্টমস অফিস এবং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৭৯ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার এ বিষয়ে কাস্টমসের সঙ্গে কথা বলেছেন

১৭৯ ব্যাটালিয়ন এর কমান্ডিং অফিসার অরুণ কুমার আইসিপি পেট্রাপোলে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন যাতে আমদানি -রপ্তানি যানবাহন এবং যাত্রীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের আড়ালে হওয়া অবৈধ চোরাচালান রোধ করা যায়, যাতে ব্যাক্তিগত জিনিসের সাথে কোনো চোরাচালান না ঘটে।