২০২১ সালের ১২ মার্চ সূচনার পর থেকে গুগল প্লে স্টোরের মাধ্যমে ১৫ লক্ষ ‘মেরা রেশন’ অ্যাপ ডাউনলোড করা হয়েছে।
এক জাতি এক রেশন কার্ড- এর আওতায় অ্যাপটি নিয়ে আসা হয়েছে। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন বা এনএফএসএ-র মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা, বিশেষত পরিযায়ী সুবিধাভোগীরা এই প্রকল্পে ব্যাপক উপকৃত হচ্ছেন।
এই অ্যাপটি ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার- এর সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ তৈরি করেছে। বর্তমানে বারোটি ভাষায় এই অ্যাপটি ব্যবহার করা যাচ্ছে। এই ভাষাগুলি হচ্ছেঃ- ইংরেজি, হিন্দি, ওড়িয়া, পাঞ্জাবি, তামিল, তেলেগু, মালায়ালাম, কান্নাডা, উর্দু, গুজরাটি, মারাঠি এবং বাংলা।
যারা এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তাঁরা গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘মেরা রেশন’ অ্যাপটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন। এই অ্যাপটি ব্যবহারের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ব্যাপক উপকৃত হবেন।
অ্যাপটি যাতে সকলেই ব্যবহার করেন সেজন্য এর ব্যাপক প্রচার করতে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলিকে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে রেশন গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বোধ গড়ে ওঠে। যারা পরিযায়ী অর্থাৎ এক স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না, তাদের ক্ষেত্রে এই অ্যাপ ব্যাপক সুবিধা প্রদান করবে। এক জাতি এক রেশন কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিযায়ী সুবিধাভোগীরা দেশের যে কোনো স্থানে রেশন দোকান থেকে তাদের রেশন তুলতে পারবেন। অ্যাপটির মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারবেন যে, বর্তমানে তাঁরা যে স্থানে বসবাস করছেন তার আশেপাশে কোথায় ন্যায্য মূল্যের দোকান বা ফেয়ার প্রাইস শপ রয়েছে। সেই দোকানে গিয়ে অনায়াসে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
এক জাতি এক রেশন কার্ড ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩২ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সফলভাবে এর প্রয়োগ করে। বর্তমানে দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গেও এই প্রকল্পের রূপায়ণ ঘটেছে। সেই কারণে ২০২১ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত ৩৪ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই ব্যবস্থা লাগু করায় প্রায় ৭৫ কোটি সুবিধাভোগী এর আওতায় এসেছেন। অর্থাৎ জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় প্রায় ৯৪.৩ শতাংশ মানুষ এক জাতি এক রেশন কার্ড ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছেন। আসাম এবং ছত্রিশগড় আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন বলে আশা করা যায়। প্রচলিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্তমানে মাসে গড়পড়তা ২.২ কোটি সুবিধাভোগী রেশন এর মাধ্যমে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করেন।
এক জাতি এক রেশন কার্ড- একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প। এটি জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন-২০১৩ অনুযায়ী এর আওতাভুক্ত সকল সুবিধাভোগীকে খাদ্য নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করে।
পরিযায়ীদের ক্ষমতায়নের জন্য এক জাতি এক রেশন কার্ড পরিকল্পনাটি বর্তমানে ‘আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের অধীনে এটি একটি প্রধানমন্ত্রীর প্রযুক্তি নির্ভর ও সংস্কার মূলক প্রকল্প’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে এর মাধ্যমে ৮০ কোটি সুবিধাভোগী উপকৃত হচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় সরকার এক জাতি এক রেশন কার্ড- এই ব্যবস্থাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে নানা ভাবে প্রচার অভিযান শুরু করেছে। হিন্দি সহ ১০ টি ভাষায় রেডিওর মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। ভারতীয় রেলের সহায়তায় সারা দেশের ২৪০০টি স্টেশনে অডিও ভিসুয়াল মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলিকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, ১৪৪৪৫ এই টোল ফ্রি নম্বরটি চালু করতে। যে নম্বরে ফোন করলে বিস্তারিত জানা যাবে।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে এক জাতি এক রেশন কার্ড ব্যবস্থার ৩৪ তম রাজ্য হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ যুক্ত হওয়ায় মোট ৭৪.৯ কোটি সুবিধাভোগী এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হলেন। এর আগে জুলাই মাসে দিল্লি এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে ।
Over 15 lakh downloads of Mera Ration App recorded within a fortnight
