এবার প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ থেকে শুভাবরি ম্যাগাজিনের প্রতিক্রিয়া আসলো। এত সাবলীল এবং উন্নতমানের লেখা সমস্ত পাঠকের জন্য পেজে দেয়া হলো।আপনাদের সুচিন্তিত মতামতকে আমরা সম্মান করি। পেজ সম্পর্কে আপনার মতামতও পাঠান, ভালো লেখা লেখকের ছবি সহ আমরা প্রকাশ করবো।মেইল: shubhabori12@gmail.com.
মাসুদ করিম
বাড়ি রওনা হবার আগের দিন কলকাতার চন্দনদার সঙ্গে কথা হলো । চন্দন চ্যাটার্জি, লেখক । শুভাবরি নামে মাসিক ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন । বললেন, ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর একটা লেখা দিন । পূজা সংখ্যার জন্য । আরও বলেন, খুব খাটাখাটি করে প্রকাশ করি । লেখা দিলে খুব খুশি হবো । আমি খুব অনার ফিল করলাম । কলকাতার লোকেরা আমার লেখা পড়বে । কিন্তু ভীষন চাপ অনুভব করলাম । কখন লিখব ? কাল বাড়ি যাব । একগাদা পারিবারিক কাজ । চন্দনদা ইন্টারনেটে ম্যাগাজিনের লিঙ্ক পাঠালেন । উঁচু মানের ম্যাগাজিন । আমি বুঝতে পারলাম কী ধরনের কন্টেন্ট তারা প্রকাশ করেন । আমি ভাবছি কখন লিখব ?
হঠাৎ একটা আইডিয়া পেলাম । ট্রেনে বাড়ি যাব । মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের টিকিট কেটেছি । ট্রেনে বসেইতো লেখা যায় ! এয়ারপোর্ট স্টেশনে ট্রেনে উঠলাম । কক্ষটা বিমানের মতো সুপরিসর আসন বিশিষ্ট । আমার পাশের সিটে কেউ নেই । গোটা কামরায় যাত্রি কম। এসির কারণে ঠান্ডা । সামনে টেবিল আছে । জানালার পাশের সিটে বসলাম । জানালার পর্দাটা খুব সুন্দর । দেখলাম, লেখার পরিবেশ আছে । শুরু করলাম । লেখার ফাঁকে মাঝে মাঝে জানালা দিয়ে তাকাই । বাইরের সবুজ দেখি । মনটা ভাল হয়ে যায় । আবার লিখি । এভাবে লেখাটা শেষ হলে হোয়াটসঅ্যাপে চন্দরদাকে পাঠিয়ে দেই । বাইরে তাকিয়ে দেখি, ট্রেন গফরগাঁও স্টেশনে থেমেছে । অভাবনীয় দৃশ্য ।

গফরগাঁও স্টেশনের প্লাটফর্মে তিল ধারণের ঠাঁই নেই । ট্রেন থামতেই হাজার হাজার মানুষ হুরমুড় করে ট্রেনের সকল কামরায় উঠলো । শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে মানুষের গায়ের ওপরে মানুষ । অামার পাশের সিটে দুইজন বসলো । সামনের টেবিলে আরও কয়েকজন বসলো । সব কামরায় একই অবস্থা । ট্রেনের ছাদও কানায় কানায় পূর্ণ । মহামারির কারণে সামাজিক দূরত্বতো প্রশ্নই ওঠে না । মাস্কও নেই। অধিকাংশই তরুণ । তাদের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে । কপালে ও বাহুতে কালো ফিতা বাঁধা । ফিতায় লেখা “বাবেল গোলন্দাজ” । আমার পাশে বসা তরুণকে জিজ্ঞাসা করলাম, তোমরা কোথায় যাচ্ছ ? সে বললো, ময়মনসিংহে শোক স্বেচ্ছাসেবক লীগের শোকসভা । অগাস্ট শোকের মাস । তাই শোক সভা । জানতে চাইলাম, গফরগাঁও থেকে কত লোক যাচ্ছ ? বললো, ২৫ হাজার । বেশিরভাগই মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে । সবাই বাবেল গোলন্দাজের লোক । প্রয়াত আলতাফ গোলন্দাজের ছেলে বাবেল । বর্তমান এমপি । ব্যাক্তিগত গাড়িতে চলে গেছেন । কর্মিরা যাচ্ছেন ট্রেনে । মহামারির কারণে স্কুল কলেজ বন্ধ । সংক্রমন ব্যাধি ছড়ানে পারে তাই সরকারের এ ব্যাবস্থা । তাই বলে, নেতার শোডাউন তো বন্ধ থাকতে পারে না ! স্কুল কলেজের ছাত্ররা এমপি সাহেবের শোডাউনে যোগ দিল । শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় লেখাপড়ার ক্ষতি হলো না !
ট্রেনের যাত্রিদের দম বন্ধ অবস্থা । লোকের ভিড়ে এসির বাতাস গরম হয়ে পড়েছে । ফ্যান ছাড়া হলো । তবুও ঘাম ছুটছে । ট্রেনের এটেনডেন্ট, টিকিট চেকার, নিরাপত্তা কর্মি সবাই নিরাপদ স্থানে চলে গেল । ময়মনসিংহে বাবেলের কর্মিরা নেমে গেলে যাত্রিদের স্বস্তি নামে । টিকিট চেকাররা উদয় হলেন । তারা বলাবলি করছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের একটা ইতিহাস হলো। এত লোক বিনা টিকিটে ভ্রমন করলো ! যাত্রিদের কেউ কেউ বলছেন, রেল কর্মিরা সরে যাওয়ায় ভাল হয়েছে । তারা টিকিট চাইলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাংচুর করতো । এত সুন্দর ট্রেনের কোনও ক্ষতি হলো না।
ময়মনসিংহ থেকে ছাড়ার পর ট্রেনের কামরা আবার ঠান্ডা হতে শুরু হলো । আমি হোয়াটসঅ্যাপে চন্দনদার জবাব পড়ে মন ভাল করলাম । চন্দনদা লিখেছেন, “অনবদ্য, অসম্ভব শক্তিশালী লেখনী। আপনাকে আমার শ্রদ্ধা সুমন অর্পন করি”।
