দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা বেশ কিছুদিন যাবত চোরাচালানকারীদের কোন রকম মাথা ওঠাতে দিচ্ছে না পাচারের জন্য। পাচারের জন্য পরিচিত সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে বিএসএফ জওয়ানরা খুব কঠিন দায়িত্ব নিয়ে ডিউটি করছে এবং লাগাতার পাচারকারীদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিচ্ছে। সেই কর্তব্যের ফল স্বরূপ ৪ সেপ্টেম্বর জওয়ানরা ২৪ টি সোনার বিস্কুট সহ ১ জন চোরাচালানকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।বাজেয়াপ্ত সোনার বিস্কুট গুলি ওজন ২.৫৯৯ কেজি এবং এর আনুমানিক মূল্য ১,২৭,১১,৯৬৮/- টাকা, যা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ১১২ ব্যাটালিয়নের সীমান্ত চৌকি আমুদিয়ার এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের মাধ্যমে আনা হচ্ছিল।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে ঐ দিন সীমান্ত চৌকি আমুদিয়া, ১১২ ব্যাটালিয়ন, সেক্টর কলকাতার জওয়ানরা আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে লুকিয়ে বসেছিল। সন্ধ্যা আনুমানিক ৫ টা ৪৩ মিনিট নাগাদ জওয়ানরা আমুদিয়া গ্রামের দিক থেকে একটি সন্দেহজনক মোটরসাইকেল যুবককে আসতে দেখে যে বালতি বাজারের দিকে যাচ্ছিল। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, যখন জওয়ানরা তাকে থামিয়ে তল্লাশি করতে চায় তখন যুবকটি হঠাৎ পালানোর চেষ্টা করে কিন্তু প্রস্তুত সতর্ক জওয়ানরা যুবকটিকে কোন সুযোগ না দিয়ে ধরে ফেলে। তৎপশ্চাত বিএসএফ জওয়ানরা তাকে তল্লাশি করলে মোটরসাইকেলের ফিল্টারের ভিতর থেকে ২৪ টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করে। জওয়ানরা শীঘ্রই সোনার বিস্কুটগুলি বাজেয়াপ্ত করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাচারকারীকে হেফাজতে নিয়ে নেয়। গ্রেফতারকৃত চোরাচালানকারির নাম আজমল সানা, বয়স – ২৭ বছর, গ্রাম – তারালি (দক্ষিণ পাড়া) + ডাকঘর – নিত্যানন্দকাটি, থানা – স্বরূপনগর, জেলা – উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় গ্রেফতারকৃত চোরাচালানকারী আজমল সানা জানায় যে সে একজন ভারতীয় নাগরিক এবং গত কয়েকদিন ধরে চোরাচালানের সাথে জড়িত । আজ সন্ধ্যা (সেপ্টেম্বর ০৪) ৫ টার সময় একজন বাংলাদেশী চোরাচালানকারী শাইদুল মোল্লা সোনাই নদীর কাছে অবস্থিত তার বাড়িতে এসে তাকে ২৪ টি সোনার বিস্কুট দেয় এবং তাকে বলে যে এগুলি বালতি বাজারের বসিরহাটের বাসিন্দা খালিক গাজীকে দিতে হবে, যার জন্য সে ৫০০ টাকা পাবে। সে আরও বলে যে বিএসএফের নজর থেকে এই সব বিস্কুট লুকানোর জন্য, সে তা তার মোটরসাইকেলের ফিল্টারে লুকিয়ে বালতি বাজারে যাচ্ছিল, কিন্তু সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর ডিউটি ​​লাইন অতিক্রম করার সময় সীমান্তের সতর্ক জওয়ানরা তাকে সোনার বিস্কুটসহ ধরে ফেলে।

গ্রেফতারকৃত চোরাচালানকারিকে এবং বাজেয়াপ্ত সোনার বিস্কুটগুলি পরবর্তী আইনী প্রক্রিয়ার জন্য কাস্টম অফিস তেঁতুলিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

১১২ ব্যাটালিয়ন এর কমান্ডিং অফিসার নারায়ণ চন্দ তার জওয়ানদের এই সাফল্য অর্জনের জন্য আনন্দ প্রকাশ করেন, যার ফলে ০১ জন চোরাচালানকারী গ্রেপ্তার হয় এবং চোরাচালানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে ২৪ টি সোনার বিস্কুট বাজেয়াপ্ত করা হয়। তিনি বলেছেন যে এটি কেবলমাত্র কর্তব্যরত তার জওয়ানদের দ্বারা প্রদর্শিত সতর্কতার কারণে সম্ভব হয়েছে। অফিসার স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তার জওয়ানদের নজর থেকে কিছুই লুকানো যাবে না। তিনি আরও বলেন যে ওনার কাছে গোয়েন্দা বিভাগের দুর্দান্ত দল রয়েছে।