দেবাঞ্জন দাস, কলকাতা: অতিমারির এই সময়ে গত বছরে দূর্গোপূজো কিছুটা হলেও বাঙালি তথা উৎসবপ্রেমী মানুষের মনে নিরাশা জাগিয়েছিল। করোনার জন্য প্যান্ডেলের নির্দিষ্ট দূরত্বে থেকে প্রতিমা দর্শন করতে হয়েছিল জনসাধারণকে। এই মহামারীর জন্য ছোট ছোট বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা প্রভাবিত হয়েছেন। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ যারা শুধুমাত্র মাটির কাজ করেন নিজেদের রুটিরুজি জন্য। মহামারী তাদেরও ছেড়ে দেয়নি।

মেয়ে ও বাবার ছোট্ট সংসার যেখানে বাবা সারাদিন মাটির বিভিন্ন জিনিসপত্র বানিয়ে বিক্রি করেন এবং সেখান থেকেই দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের পয়সা আসে। ছোট্ট মেয়ের দুর্গা ঠাকুর দেখার খুব শখ। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামে আশেপাশে তিন-চারটে অঞ্চল নিয়ে একটাই বড় দুর্গা পূজো হয়ে থাকে। অতিমারির কারণে সবার পকেটেই টান। তাই দুর্গা পুজো আর সেভাবে হচ্ছে না। তবু ছোট্ট মেয়েটির কি আর মন মানে। নিস্পাপ শিশু তার বাবার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়। এবারে কি বাবা দুর্গাপুজো হবে না? মনে খুব দুঃখ চেপে ধরে বাবা উত্তর দেয়, এবারে সেভাবে তো আর হচ্ছে না তাই তুমি পরের বছরে দুর্গাপুজো দেখো।
ছোট্ট মেয়েটি জানে দুর্গা ঠাকুর হলো তাদের ঘরের মেয়ে, তাই সবার সমস্ত রকম দুঃখ দুর্গা ঠাকুরের কাছে বললে মা তা দূর করে দেবেন। তার বাবা মাটির কাজ করার সাথে সাথেই দুর্গা প্রতিমাও বানান। সেই দুর্গা প্রতিমার মাটির তৈরি করা মুখশ্রী তুলে ধরে নিজেকে দুর্গা রূপে চিন্তা করতে করতে বাবাকে বলল, বাবা দেখো আমি দুর্গা সেজেছি।

দক্ষিণ কলকাতার ‘কালীঘাট শ্রী সংঘে’র এবারের দুর্গা পুজো থিম ‘গৌরী’। ছোট্ট মেয়ের সেই দুর্গা রূপটি এবারের তুলে ধরছে ‘কালীঘাট শ্রী সংঘ’। বহু বছর ধরেই তারা বিভিন্ন ভাবে সাধারণ মানুষকে নজর কাড়া সাজে প্যান্ডেলের সাথে প্রতিমা উপহার দিয়ে আসছে দুর্গা পুজোতে। এবারেও তার নড়চড় হয় নি। মহামারীতে প্রভাবিত সেই সমস্ত ব্যক্তির ঘরের জলজ্যান্ত ঘটনা তুলে ধরা এবারের ‘কালীঘাট শ্রী সংঘে’র অন্যতম প্রচেষ্টা।

এবার ২৭ বছরে পদার্পণ করল তাদের দুর্গোৎসব। সমগ্র পরিকল্পনা করেছেন সম্রাট ভট্টাচার্য, আবহসংগীত সৈকত দেব, আলোকসজ্জা নির্মল মাইতি।

প্রত্যেক দর্শনার্থীকে এক নজর কাড়া থিম উপহার দিতে চলেছে কালীঘাট শ্রী সংঘ। পুজোর কর্মকর্তাদের দাবি এবারেও তারা প্রতি বছরের মতন দর্শক টানতে সচেষ্ট হবেন।