কয়লা মন্ত্রক ১৯৬০-এর খনিজ ছাড় সুবিধা আইন সংশোধন করেছে। এই সংশোধনের ফলে ক্যাপ্টিভ খনিগুলির লিজ গ্রহীতারা অতিরিক্ত মাশুল মেটানোর মাধ্যমে কয়লা ও লিগনাইট বিক্রি করতে পারবেন। তবে, সংশ্লিষ্ট খনির সঙ্গে যুক্ত থাকা সংস্থাগুলির চাহিদা মেটানোর পর একটি অর্থবর্ষে মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশ কয়লা বা লিগনাইট বিক্রি করার অনুমতি মিলেছে। এ বছরের গোড়ার দিকে ৫০ শতাংশ কয়লা বা লিগনাইট বিক্রির জন্য খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধিত আইনে পুনরায় সংশোধন করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের ক্যাপ্টিভ খনিগুলিতে আইনে সংশোধনের বিষয়টি প্রযোজ্য হবে।

এই সংশোধনের ফলে ক্যাপ্টিভ কয়লা ও লিগনাইট খনি থেকে খনিজ পদার্থের আরও বেশি সদ্ব্যবহার বাড়বে এবং বাজারে অতিরিক্ত কয়লার যোগান বৃদ্ধি পাবে। আগে কয়লা উৎপাদন সীমিত থাকার দরুণ ক্যাপ্টিভ খনিগুলি থেকে অতিরিক্ত যোগান পাওয়া যেত না। বাজারে অতিরিক্ত কয়লার যোগান বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলির ওপর চাপ কমবে এবং কয়লা আমদানি নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট পরিমাণ কয়লা বা লিগনাইট বিক্রির অনুমতি মেলায় লিজ গ্রহীতারাও অতিরিক্ত উৎপাদনে উৎসাহিত হবেন। এমনকি, অতিরিক্ত পরিমাণ কয়লা বিক্রির ক্ষেত্রে যে রয়্যালটি ও অন্যান্য শুল্ক মিলবে, তার ফলে রাজ্য সরকারগুলির রাজস্ব বাড়বে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ১০০টিরও বেশি ক্যাপ্টিভ কয়লা ও লিগনাইট ব্লক লাভবান হবে। সেই সঙ্গে, কয়লা ও লিগনাইট সমৃদ্ধ রাজ্যগুলির রাজস্ব বাড়বে।

সরকার ৫০ বছর মেয়াদী কয়লা ও লিগনাইট খনি কোনও একটি সরকারি সংস্থা ও নিগমকে লিজ দেওয়ার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘমেয়াদী-ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে কয়লা বা লিগনাইট উৎপাদন অব্যাহত থাকবে। পক্ষান্তরে, দেশে কয়লা ও লিগনাইট উৎপাদন ক্ষেত্রে আরও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। ৫০ বছর মেয়াদী লিজের সময়সীমা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে আরও ২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সংস্থান রয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন বারবার আবেদনের প্রয়োজনীয়তা দূর করবে, অন্যদিকে তেমনই খনিজ উত্তোলন প্রক্রিয়াও সুনিশ্চিত হবে।