ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দ ‘স্বচ্ছ অমৃত মহোৎসব’-এর অঙ্গ হিসেবে স্বচ্ছ শহরগুলির প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার প্রদান করেছেন। গত ২০ নভেম্বর নতুন দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত স্বচ্ছ ভারত মিশন- শহরাঞ্চল-২- এর অঙ্গ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শহরকে আবর্জনা মুক্ত রাখতে উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে কয়েকটি বিশেষ পর্যায়ে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ-২০২১, সাফাই মিত্র সুরক্ষা চ্যালেঞ্জ এবং আবর্জনা মুক্ত শহর হিসেবে বিবেচনা করে মূল্য নির্ধারণ করা। বিভিন্ন পর্যায়ে এদিন প্রায় তিনশ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

ইন্দোর লাগাতার পাঁচ বছর ধরে ভারতের ‘ক্লিনেস্ট সিটি’ হিসাবে খেতাব জয় করেছে। যেখানে সুরাট এবং বিজয়ওয়াড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। বারানসী সেরা ‘গঙ্গা টাউন’ হিসাবে পুরস্কার লাভ করেছে। অন্যদিকে, ভারতের ‘ক্লিনেস্ট ক্যান্টনমেন্ট’ হিসেবে আমেদাবাদ ক্যান্টনমেন্ট সেরার খেতাব জয় করেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মেরুট এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট।

‘ফাস্টেস্ট মুভার সিটি’ হিসাবে মধ্যপ্রদেশের হসংজ্ঞাবাদ বিবেচিত হয়েছে।

রাজ্যের ক্ষেত্রে ছত্রিশগড় পরপর তিন বছর ধরে ‘ক্লিনেস্ট স্টেট’ হিসেবে ভূষিত হয়েছে।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বলেন, এবছর ‘আজাদী কা অমৃত মহোৎসব’ উদযাপন উপলক্ষে এই স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ পুরস্কারের একটা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, করোনা জনিত পরিস্থিতির মধ্যেও সাফাই মিত্র এবং স্যানিটেশন কর্মীরা লাগাতারভাবে তাঁদের কাজ করে চলেছেন। সরকার অপরিচ্ছন্নতার কারণে কোন স্যানিটেশন কর্মীর জীবন যাতে ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে তার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপতি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ভারতের ঐতিহ্য হচ্ছে পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখা। সারা বিশ্বই এখন সেদিকে নজর দিয়েছে। বর্জ্য পদার্থ এবং আবর্জনাকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এইসব ক্ষেত্রে উদ্যোগপতি এবং বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা তৈরির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়নমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, স্বচ্ছ ভারত মিশন- শহরাঞ্চল- এর অধীনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে অভূতপূর্ব সাফল্য মিলেছে। এটি একটি সত্যিকারের ‘জন আন্দোলন’-এর রূপ নিয়েছে। স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ এর ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। যা ২০১৬ সালে পাইলট প্রকল্প হিসাবে দেশের ৭৩ টি শহরের মধ্যে শুরু হয়েছিল। আজ এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ নগর পরিচ্ছন্নতা মূলক সমীক্ষা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক বছর সামগ্রিক পরিছন্নতা অর্থাৎ বিশুদ্ধ বায়ু, পরিচ্ছন্ন ভূমি এবং পরিশুদ্ধ পানীয় জলের দিকে মনোনিবেশ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সবুজ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর তৈরি করার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের শহরাঞ্চলের স্বচ্ছতা চ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানান। যার সঠিক এবং উপযুক্ত শিরোনাম হচ্ছে স্বচ্ছ অমৃত মহোৎসব।

আজকের এই অনুষ্ঠানে নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কৌশল কিশোরও প্রাপকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছত্রিশগড় ও সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের লেফটেন্যান্ট গভর্নর।